গ্রীষ্মকাল এলেই বাজার ভরে ওঠে রসালো ও সুস্বাদু লিচুতে। জনপ্রিয় এই ফলটি স্বাদ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও সময় বুঝে খেতে হবে। অন্যথায় রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লিচুতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কপার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং গরমে শরীর সতেজ রাখতে সহায়ক। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ফলে অতিরিক্ত খেলে ডায়েবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে বেশি লিচু খেলে ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে এবং ক্ষুধার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাদের ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি।
তবে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে লিচু খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, একবারে চার থেকে ছয়টি মাঝারি আকারের লিচু তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হয়। খালি পেটে না খেয়ে দুপুর বা বিকেলের দিকে খাওয়াই ভালো। একই সঙ্গে অন্য মিষ্টিজাত খাবার এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই সকালে না খেয়ে শুধু লিচু খাওয়া উচিত নয়। ডায়েবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, লিচুর জুসের তুলনায় আস্ত ফল খাওয়াই ভালো। কারণ জুসে আঁশ কম থাকে এবং চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায়। লিচু খাওয়ার পর শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝতে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
যাদের রক্তে শর্করা খুব বেশি ওঠানামা করে, ইনসুলিন নিতে হয় কিংবা কিডনি ও হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে খেলে ডায়েবেটিস রোগীরাও গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল উপভোগ করতে পারেন নিরাপদভাবেই।
এসি/আপ্র/১৯/০৫/২০২৬