গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সম্পর্কের গভীরতা বাড়লেই কেন বদলে যায় আচরণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২০ পিএম, ০৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৩:২২ এএম ২০২৬
সম্পর্কের গভীরতা বাড়লেই কেন বদলে যায় আচরণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের শুরুটা সাধারণত আনন্দ, উত্তেজনা আর দীর্ঘ কথোপকথনে ভরা থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সম্পর্ক যত গভীর হতে শুরু করে, ততই একজন মানুষ আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন। সম্পর্কের এই অদ্ভুত আচরণ নিয়েই বর্তমানে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু মানুষ সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করলে অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে তারা ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেন, এড়িয়ে চলেন বা কখনও হঠাৎ করেই সম্পর্ক থেকে সরে যান। সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি এক ধরনের মানসিক আচরণ, যেখানে মানুষ আবেগের গভীরতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দূরত্ব তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মানুষদের শুরুতে চেনা কঠিন। কারণ সম্পর্কের প্রথম দিকে তারা বেশ আন্তরিক, যত্নশীল এবং মনোযোগী থাকেন। তবে সম্পর্ক যখন আরও গুরুত্ব পেতে শুরু করে, তখন তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। কখনও খুব কাছাকাছি আসেন, আবার হঠাৎ করেই দূরে সরে যান।

এ ধরনের আচরণের পেছনে অনেক সময় অতীতের অভিজ্ঞতা বা শৈশবের পরিবেশ কাজ করে। যেসব মানুষ ছোটবেলায় আবেগগত নিরাপত্তা পাননি বা ভালোবাসাকে শর্তসাপেক্ষ হিসেবে দেখেছেন, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভয় তৈরি হতে পারে। তারা মনে করেন, আবেগ প্রকাশ করলে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ফলে অজান্তেই সম্পর্ক থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাউকে একটু ব্যক্তিগত সময় বা স্বাধীনতা প্রয়োজন হলেই তাকে এই শ্রেণির মানুষ বলা যাবে না। সুস্থ সম্পর্কেও ব্যক্তিগত পরিসর থাকে। পার্থক্য হলো, সেখানে যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বজায় থাকে।

মনোবিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা থাকলেই কেউ খারাপ মানুষ হয়ে যান না। অনেক সময় মানুষ নিজের আবেগই ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। কিন্তু এই আচরণ যদি বারবার সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হয় এবং অপর পক্ষকে মানসিক কষ্ট দেয়, তখন তা সমস্যার রূপ নেয়।

এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আত্মবিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ভয়, অস্বস্তি ও আবেগের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া, নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং খোলামেলা যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক শুধু আনন্দের মুহূর্ত ভাগাভাগি করার বিষয় নয়। কঠিন অনুভূতি, ভয় ও দুর্বলতাও একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই একটি সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি হয়। তাই আবেগ প্রকাশকে ভয় না পেয়ে, বোঝাপড়া ও বিশ্বাসের মাধ্যমে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এসি/আপ্র/০৬/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন

ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে মাখানা ও পপকর্নের মধ্যে কোনটি...

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা

ব্যথা কতটা তীব্র, তা শুধু শারীরিক উদ্দীপনার ওপরই নির্ভর করে না; আশপাশের পরিস্থিতি এবং সামনে থাকা ব্য...

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন

নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়, সাবলীল কথোপকথন, এরপর তার পরবর্তী বার্তার অপেক্ষা—এভাবেই কখনো কখনো অল্প সময়ের...

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ
২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ

উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—সব আয়োজনেই ঘরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান অনেকে। তবে ঘর সাজানোর জন্য নতুন আ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে