দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগের দিন একই সময়ে সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে ১৩২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গত দুই দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের মোট সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সরবরাহ হয়েছে সক্ষমতার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সক্ষমতা ব্যবহারের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধিকে দেখা যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, আরপিজিসিএলের মাধ্যমে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৩১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৫ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুটে।
অর্থাৎ এক দিনে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ১২৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকেও উৎপাদন সামান্য বেড়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন ৪৮২ দশমিক ৪ থেকে বেড়ে ৪৮৩ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন ১০০ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
তবে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন ১৩৯ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুটে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর গ্যাস উৎপাদন সামান্য কমেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর এসব কোম্পানির উৎপাদন ছিল ৮৯১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। পরদিন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এর মধ্যে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ৭২৪ দশমিক ৮ থেকে কমে ৭২০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
তবে জালালাবাদে উৎপাদন ১২১ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ১২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। তিতাসের উৎপাদনও ৩২৯ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনে বড় পরিবর্তন না হলেও এলএনজি সরবরাহ বাড়ার কারণেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ বেড়েছে।
এসি/আপ্র/১৬/৯/২০২৬