বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এতিম ভাতিজার নির্মাণাধীন বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও চাচীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মনোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক যুবক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মৃত মজিবর রহমানের ছেলে দিনমজুর ও ভ্যানচালক মনোয়ার হোসেন নিজের বাস্তুভিটায় পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেন তার আপন চাচা মুরসেদুল ইসলাম ও চাচী শায়না বেগম। মঙ্গলবার সকালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মাণাধীন পাকা ঘরের দেয়াল ও কাঁচা ইটের গাথুনি ভেঙে দেন বলে অভিযোগ।
এ সময় মনোয়ার বাধা দিতে গেলে চাচী শায়না বেগম লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত মনোয়ারের মা বিধবা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই দেবর মুরসেদুল ও তার স্ত্রী আমাদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। অসহায় জেনে তারা বারবার আমাদের ওপর চড়াও হয়।’
মনোয়ারের স্ত্রী জেনিফা বেগম জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে ১০৭ ধারায় মামলা করা হয়। মামলায় আসামিরা ভবিষ্যতে আর কোনো বাধা দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জামিন নেন। তবে জামিনে বের হয়ে তারা সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেনিফা বেগম আরো অভিযোগ করেন, ‘চাচী শাশুড়ির বাবার বাড়ি এই গ্রামেই হওয়ায় তিনি প্রভাব ও পেশিশক্তি খাটিয়ে আমাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও আহত মনোয়ারের ছোট ভাই আনোয়ার জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৬/৯/২০২৬