মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস বা আরএলএনজির সরবরাহ দাঁড়ায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ গ্যাস এদিন সরবরাহ করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাসের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাস মিলিয়ে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগে সোমবার রাত ৮টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। তখন আরএলএনজি সরবরাহ ছিল ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ১৬ ঘণ্টায় মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ২৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ে আরএলএনজি বেড়েছে ২২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
এলএনজি সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসে সোমবার রাতেই। রাত ৯টা ৫ মিনিটে এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়া হয়। তখন এসএলএনজি টার্মিনাল থেকে আসছিল ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে দুই টার্মিনাল থেকে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।
রাত ১০টার হিসাবে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন ঘনফুটে ওঠে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট।
মঙ্গলবার দুপুরে আরএলএনজি সরবরাহ আরো ১০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাস ১৮ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়লে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছে।
এর আগে সোমবার বিকাল ৪টায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬১১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আরএলএনজি ৭৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে আরএলএনজি ছিল ৭৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
অর্থাৎ রোববার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ২৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে আরএলএনজি সরবরাহই বেড়েছে ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দিনে মোট প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। সেই হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরের ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ তাদের সম্মিলিত সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ।
চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো বড়: সরবরাহ বাড়লেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি এখনো উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গত ৭ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরের ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের বিপরীতে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিতুমীর তখন বলেছিলেন, দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট দেশীয় গ্যাস এবং প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পাওয়া গেলে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরের হিসাবে দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কারখানায় সরবরাহ বাড়ার আশ্বাস: এদিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সোমবার বৈঠকের পর এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে কল-কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি আগস্টে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে ‘আগের অবস্থায়’ বলতে কী পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দেওয়া হয়নি।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধাক্কা আসে। পরে টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও আগস্টে কয়েক দফা সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
১৯ আগস্ট এলএনজির মজুদ শেষ হয়ে ওই টার্মিনাল আবার বন্ধ হলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায়। তখন সামিটের টার্মিনালই আমদানি করা গ্যাসের একমাত্র উৎস ছিল। পরে কার্গো আসা এবং দুই টার্মিনালের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে।
আরো এলএনজি কেনার উদ্যোগ: গ্যাস সংকট সামাল দিতে সরকার এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সেপ্টেম্বরের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনালের একটি কার্গো ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সরবরাহের কথা ছিল। ওই কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার। টোটাল এনার্জিসের আরেকটি কার্গো ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা, যার দাম ২৪ দশমিক ২৫ ডলার।
এর মধ্যে সরকার আরো ছয় কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর চারটি সরাসরি কেনা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনক ও মাইন্ড মিঙ্গল এলএলসির কাছ থেকে। বাকি দুটি অক্টোবরের জন্য টোটাল এনার্জিস ও ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে কেনা হবে।
এ ছাড়া অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে মাসে দুটি করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সানা/আপ্র/১৫/৯/২০২৬