গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৫ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫১ এএম ২০২৬
হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন
ছবি

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান -ছবি সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের এবং অন্য পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সহজীকরণের ক্ষেত্রে পলাতক আসামিদের হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তারা সবাই পলাতক।

পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমার সাথে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল; সেখানে যখন ইস্যুগুলো নিয়ে কথা হয়েছে, সেই ইস্যুগুলোর মধ্যে এগুলো ছিল। আমি তাকে আমার জায়গা থেকে জানানোর চেষ্টা করেছি, শেখ হাসিনা এবং অন্য যারা আছেন-তাদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থানটা এরকম আছে এবং বাংলাদেশের সাথে একটা ওয়ার্কিং অ্যাঙ্গেজমেন্টের জন্য এই জিনিসগুলোর ব্যাপারে তাদের বিবেচনা করা উচিত।”

ভারতসহ অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া আসামিদের ফেরানোর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শেখ হাসিনাকেই চাইছি, আমরা ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে চাইব না কেন? আমি এজন্য ভারত সরকারের কাছেও আহ্বান জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।”

শেখ হাসিনা ও সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “প্রসেস বলতে শুধু জুলাই বোঝাই না, আমরা যেন এই ভুলটা না করি। আমরা অনেকে মনে করি, শেখ হাসিনা শুধু জুলাইতেই এসে খারাপ হয়েছেন। শেখ হাসিনার বর্বরতা বহু আগে থেকে চলছে, ওভার দ্য ইয়ার্স চলেছে।”

পলাতকদের ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, “ভারত সরকার আমাদের এই সেনসিটিভিটিটা বুঝবেন এবং তাদেরকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন। আমাদের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাব, না চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।”

বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, “সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের শিকার রাজনৈতিক দলই এখন ক্ষমতায় বা রাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছে, তাই এই বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতও দুই দেশের বিদ্যমান জটিলতা বা ইস্যু থাকার কথা স্বীকার করেছে। সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের সংবেদনশীলতাকে মূল্য দেওয়ার জন্য ভারতীয় পক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একক কোনো এখতিয়ার নেই।

তিনি বলেন, “এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কবে নাগাদ নির্বাচন করবে।”

চলতি বছরের ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার ‘কিছুই জানে না’।

এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী যেহেতু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনো তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক ধরে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির ঘোষিত তারিখ চূড়ান্ত কি না, নির্বাচন পেছাবে নাকি এগোবে-সেটিও আলোচনার বিষয় বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তবে বিষয়টিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না; নির্বাচন সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। এবার কোনো দল সরাসরি অংশ না নেওয়ায় প্রার্থীরা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং অতীতের মতো সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের অনুরাগ-বিরাগ নেই: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং মামলা নিজস্ব গতিতেই চলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফসংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ ও এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এটি হাইকোর্টের রায় এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই কার্যকর হবে।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এতে হস্তক্ষেপ করবে না। সংশ্লিষ্টরা চাইলে আপিল বিভাগে যেতে পারেন। সেখানে তাদের অবস্থান টেকসই না হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি যেহেতু বিচার বিভাগের বিষয়, সরকার বিশ্বাস করে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে।

ফাঁসির রায়ে প্রতিশোধস্পৃহা নেই: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের পক্ষের আইনজীবীরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না-সরকার সেটিই দেখতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৫/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসাম...

বাক্স্বাধীনতা নিয়ে মাহদীর দাবি, টিআইবির তথ্যে ভিন্ন চিত্র
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাক্স্বাধীনতা নিয়ে মাহদীর দাবি, টিআইবির তথ্যে ভিন্ন চিত্র

‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা

দুই টার্মিনালে সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এলএনজি, সরবরাহ ২৬১০
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই টার্মিনালে সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এলএনজি, সরবরাহ ২৬১০

মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬...

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র অ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই