আওয়ামী লীগের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের অনুদানের নামে অর্থ আত্মসাৎ, কর ফাঁকি ও ৪৩৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের অনুকূলে ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে অবৈধভাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করেন। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মোট ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা আয় করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে সিআরআইয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে অসংগতি পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় হিসেবে ২৯ কোটি ৫০ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬ টাকা দেখালেও হিসাব অনুযায়ী ৭০ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৩৯০ টাকা থাকার কথা ছিল। কিন্তু হিসাবে স্থিতি পাওয়া যায় ৫৫ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ টাকা। এতে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক।
এ ছাড়া সিআরআইয়ের নামে পরিচালিত ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭০ টাকা জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৯ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৪৩৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, আইন লঙ্ঘন করে ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এসব অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সানা/আপ্র/২৯/১০/২০২৬