সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে টানা তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুই দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড শেষে আবারো তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আবেদন করলে আদালত এ আদেশ দেন।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন প্রথম দফায় পাঁচ দিনের এবং ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. রায়হানুর রহমান চার দিনের রিমান্ড আবেদন করে বলেন, পূর্ববর্তী জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যায়নি। অধিকতর তথ্য উদঘাটনের জন্য পুনরায় রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি একটি বড় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং আগের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই আরো সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, দুই দফার দীর্ঘ রিমান্ডেও তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া ৭২ বছর বয়সী এই আসামি গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি একটি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেট গঠন করে জনশক্তি রপ্তানি খাতে বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিপুল অর্থ আদায় করেছেন। একই সঙ্গে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বহু ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী, আমলা ও ব্যবসায়ীসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চক্র বিভিন্নভাবে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৪/২০২৬