জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে চালু হওয়া মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে ঢাকা জেলায় নতুন করে ১৮টি পেট্রোল পাম্পে এই পাইলট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তবে যুক্ত হওয়া এসব পাম্পের নাম, অবস্থান বা কোন এলাকায় অবস্থিত—সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর বাইরে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম মহানগর, বরিশাল ও বরিশাল মহানগর, খুলনা ও খুলনা মহানগর, রাজশাহী ও রাজশাহী মহানগর এবং ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলও ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব এলাকার মোটরসাইকেলচালকেরা এখন থেকে এই ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম চালু করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মতামত ও অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর থেকেই দেশে তেলের সংকট তীব্র হয়। রোজার ঈদের আগে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নড়াইলে গত ২৮ মার্চ তেল না পাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে পাম্প ম্যানেজার নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও অকটেন ও পেট্রোল সংকট এবং কৃত্রিম ঘাটতির অভিযোগ ওঠে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বিক্রির কারণে একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়া, দীর্ঘ লাইন ও যানজটের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল রেকর্ডে আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হবে।
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে কেবল মোটরসাইকেলচালকদের জন্য সেবা চালু করা হয়।
এই ব্যবস্থায় কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি নেওয়া যায়। স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাইলট শুরুর পরদিন থেকেই সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোতে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য পৃথক সুবিধা দেওয়া হয়। কোথাও আলাদা লাইন চালু করা হয়, আবার কোথাও অ্যাপ ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণাও আসে।
জ্বালানি সরবরাহে চাপ ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যখন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখনই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে মার্চের শুরুতে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমাও নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬