গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রাখার কৌশল

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫২ এএম ২০২৬
অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রাখার কৌশল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সামাজিক মাধ্যম ও স্মার্টফোনের আসক্তি বর্তমানে অভিভাবকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সঠিক কৌশল জানা থাকলে সন্তানদের এ ‘ডিজিটাল নেশা’ থেকে বের করে আনা সম্ভব।
বিবিসি লিখেছে, মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক রায় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, সহজ পাঁচটি পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্তানের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের আদালত বলেছে, মেটা ও গুগল ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছে, যা আসক্তি তৈরি করে এবং এ বিষয়টি একজন তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে।

‘কেইলি’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামের একটানা স্ক্রলিংয়ের সুবিধার মতো বিভিন্ন ফিচার এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়েন।

মার্কিন আদালতের এ রায়কে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হলেও গোটা বিশ্বের যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ফোনের ব্যবহার কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য এর ব্যবহারিক সুবিধা খুব সামান্যই। ফলে সন্তানদের হাত থেকে ফোন সরিয়ে নেওয়ার উপায় জানতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন–

১. ছোট থেকে শুরু করুন ও বাস্তববাদী হোন: যেসব মা-বাবা এরইমধ্যে সন্তানদের হাতে ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন তুলে দিয়েছেন তারা হয়ত ভাবছেন এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ড. জেন গিলমোর বলছেন, এমনটি খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে। যে কোনো অভ্যাস পরিবর্তন করা সবসময়ই কঠিন। ফলে স্ক্রিন টাইম নিয়ে ঝগড়া বা তর্কের সময় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বরং শান্ত পরিবেশে পরিবর্তনের কথা বলতে পরামর্শ দিয়েছেন ড. গিলমোর। তার মতে, শান্ত মাথায় আলোচনা করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
স্ক্রিন টাইম কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে বাড়িতে ডিভাইসের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা, যেমন কোনো আলমারি ঠিক করে রাখা। তিনি আরো বলেছেন, চার্জারগুলোও নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন... যাতে ফোনের কাজ শেষ হলে সেগুলো চার্জে বসিয়ে রাখা যায় এবং তা সেখানেই থেকে যায়।

২. সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখান: শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মেরিহ্যান বেকার বলেছেন, বড় সন্তান বা টিনএজারদের ওপর কেবল নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে বরং স্ক্রিন টাইম সংক্রান্ত আলোচনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা বেশি কার্যকর। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমবয়সীদের চাপের বিষয়টি স্বীকার করে নিলে তাদের বোঝানো সহজ হয়। যেমন তাদের বলা যেতে পারে, আমি বুঝি যে, এখানেই তোমরা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করো। আমি এটাও বুঝি, সামাজিক মাধ্যম না থাকলে তোমাদের ওপর এক ধরনের সামাজিক চাপ তৈরি হয়। আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ফলে চলো আমরা আলোচনা করি কীভাবে দিনের কিছুটা সময় ফোন থেকে দূরে থাকা যায়।
প্যারেন্টিং কোচ অলিভিয়া এডওয়ার্ডস বলছেন, সন্তান বা টিনএজারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

আমাদের সন্তানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকতে হবে। কারণ সেটিই আমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে ও দলগতভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে মা-বাবাদের জন্য ভালো উপায় হতে পারে সন্তান অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে তার প্রতি আন্তরিক আগ্রহ দেখানো।

৩. স্ক্রিন টাইমকে শেখার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন: অনেক অভিভাবকই মনে করেন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল ট্রেন্ড বা ঝোঁকগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা তাদের জন্য কঠিন। তবে স্ক্রিন টাইম নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে বড়-ছোট উভয় পক্ষই একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেতে পারেন। অলিভিয়া বলেছেন, আপনার সন্তানকে বলতে পারেন, ‘তোমার কী মনে হয় সামাজিক মাধ্যম কীভাবে কাজ করে? এসব অ্যাপ মানুষকে আটকে রাখার জন্য কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে বলে তুমি মনে করো? তুমি কি জানো মানুষ যত বেশি সময় এখানে কাটায় এসব কোম্পানি তত বেশি অর্থ আয় করে?’
ড. জেন বলেছেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাতে-কলমে ডিজিটাল বিষয় শেখাতে পারেন। এমন কিছু কনটেন্ট থাকতে পারে যা আপনারা একসঙ্গে বসে দেখতে পারেন এবং বলতে পারেন, ‘আচ্ছা, তোমার কি ধারণা, এমনটা সত্যি? বা সত্যি কি না তা আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি?’

৪. নিজে ভালো উদাহরণ তৈরি করুন: শিশুরা মা-বাবাকেই অনুকরণ করবে, সেটিই স্বাভাবিক। ফলে সন্তানদের মধ্যে ভালো স্ক্রিন হ্যাবিট বা ফোন ব্যবহারের সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে হলে আগে নিজেদের আচরণের দিকে নজর দিতে হবে। মেরিহ্যান এ বিষয়টি হালকাভাবে বা মজার ছলে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তানদের সঙ্গে কিছুটা বিনয়ী হয়ে এভাবে কথা বলা যেতে পারে আসলে আমরা সবাই এই দোষে দুষ্ট। ফোনের সঙ্গে আমার নিজের সম্পর্কটাও যতটা ভালো হওয়া উচিত ছিল, ততটা নেই। ফোন ও ট্যাবলেট সব বয়সী মানুষের জন্যই বিনোদনের সার্বক্ষণিক এক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ড. জেন বলছেন, বড়-ছোট উভয় পক্ষই যদি কিছুটা সময় ‘অবসর’ বা ‘একঘেয়েমি’ কাটিয়ে অভ্যস্ত হয় তবে বিষয়টি তাদের জন্য উপকারী হতে পারে।
সারাক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা আমাদের বাইরের জগতের দিকে মনোযোগী রাখে। তবে যখন আমরা নিজেদের ভেতরের জগতে ফিরে আসি ও শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি তখন তা আমাদের অতীত নিয়ে ভাবতে এবং ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে সাহায্য করে, যা আমাদের সৃজনশীলতা বাড়ায়। ফলে আপনার সন্তান যখন অভিযোগ করবে যে তার করার কিছু নেই এবং সে কেবল বসে আছে তখন দুশ্চিন্তা করবেন না। আসলে এমনটি ইতিবাচক একটি দিক।

৫. আতঙ্কিত হবেন না: সন্তান লালন-পালন করা কখনোই সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন চারদিকে কেবল স্ক্রিন আর আমরা এখনও শিখছি যে এগুলো আমাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তখন চিন্তিত হওয়াটা স্বাভাবিক। ‘ইউনিভার্সিটি অফ এসেক্স’-এর ডিজিটাল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. টোনি স্যাম্পসন বলেছেন, অভিভাবকদের ‘ভয়’ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়। উদ্বিগ্ন অনেক মা-বাবার মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা যায় যে, তারা প্রচারমাধ্যমের আতঙ্কিত খবরে প্রভাবিত হয়ে ভাবেন সব টিনএজারের মস্তিষ্কই বুঝি সামাজিক মাধ্যম আসক্তির জন্য তৈরি। তবে শিশু ও টিনএজারদের মস্তিষ্কে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ নামের এক বৈশিষ্ট্য থাকে, অর্থাৎ বড়দের তুলনায় তাদের মস্তিষ্ক যে কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বা সেখান থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে অনেক বেশি সক্ষম। আমরা প্রায়ই পড়ি যে, সামাজিক মাধ্যম আমাদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। আসলে সামাজিক মাধ্যম মনোযোগ কমিয়ে দেয় না বা নষ্ট করে না, বরং তা আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়ে বাণিজ্যিক বিষয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার বরং সৃজনশীলতা, নতুন কিছু খোঁজা ও শেখার ক্ষেত্রে এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
সানা/আপ্র/৩০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানি
২৬ অক্টোবর ২০২৬

ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বস্তল থেকে গাউসিয়াগামী পথে পাকুন্ডা এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাক...

ইশরাকের ফিল্মি স্টাইলের অভিযান নিয়ে এবার তাসনিম জারার স্ট্যাটাস
১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকের ফিল্মি স্টাইলের অভিযান নিয়ে এবার তাসনিম জারার স্ট্যাটাস

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইন সংলগ্ন একটি মাদকের আস্তানায় ফিল্মি স্টাইলে এক অভিযান চালিয়ে আবারো আলোচন...

দেশ উগ্র ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে: মাহফুজ আলম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশ উগ্র ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে: মাহফুজ আলম

সুশীল সমাজ ও ঐতিহ্যবাহী আলেমদেরও খেসারত দিতে হবে

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আয়ের পথ তৈরি করবেন যেভাবে
০৩ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আয়ের পথ তৈরি করবেন যেভাবে

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হলো। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখো মানুষ সেটি দেখলেন। এরপর শুরু হলো আয়।...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে