ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফুটবল রেগুলেটরের (আইএফআর) চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান বলেছেন, আর্থিক বিপদ মোকাবেলায় ‘খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ পদক্ষেপ নিতে হবে ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষকে।
আইএফআর মঙ্গলবার ‘স্টেট অফ দা গেম’ শীর্ষক খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে, গত মৌসুমে ইংলিশ ফুটবল ৯ বিলিয়ন পাউন্ড (১১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) রাজস্ব আয় করলেও, শীর্ষ পাঁচ বিভাগের ৯৪ শতাংশ ক্লাবই লোকসানে ছিল।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মালিকের অর্থায়ন ছাড়া ৩২টি ক্লাব এক মাসের বেশি টিকে থাকতে পারবে না এবং ১৭টি ক্লাব তাদের ফুটবলাররা বিনামূল্যে খেললেও লোকসানে থাকবে।
আইএফআর চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান প্রতিবেদনের মুখবন্ধে বলেছেন যে, ইংলিশ ক্লাব ফুটবল একই সঙ্গে “বিশ্বের সবচেয়ে ধনী, সেরা এবং সবচেয়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক, আবার আর্থিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তেও দাঁড়িয়ে আছে।” প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, এই মৌসুমের শেষে ইংলিশ ফুটবলে মোট ঋণ ৫ বিলিয়ন পাউন্ড (৬.৬ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে যাবে এবং ফুটবলার কেনাবেচার ক্ষেত্রে মোট ঋণ হবে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড (৪.৫ বিলিয়ন ডলার)।
এমন এক সময়ে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যখন পরবর্তী চক্রে সম্প্রচার থেকে আয় স্থিতিশীল থাকবে বা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে কোগান বলেছেন, ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই। “সবাইকে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে, কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।
সম্প্রচার থেকে আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনাকে আমাদের একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সঙ্গে এটাও দেখতে হবে যে, যদি আয়ের পরিমাণ সত্যিই কমে যায়, তাহলে কী ঘটবে। “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি বেশ অনুকূল। বছরে ৯ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হচ্ছে। তারল্য, লোকসান এবং ঋণের মতো সমস্যাগুলো সমাধানের এটাই সঠিক সময়, কারণ হঠাৎ করেই দেখবেন আয় কমে যাচ্ছে এবং তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি, ফুটবল বিশ্বও এটাই চায় এবং আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি।”
আইএফআর-এর কর্মপরিকল্পনায় ফুটবলের অর্থ বণ্টন ব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবের চেয়ে গড়ে ৮.৭ গুণ বেশি আয় করেছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব। যেখানে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম মৌসুম, অর্থাৎ ১৯৯২-৯৩ সালে এই পার্থক্য ছিল ২.৭ গুণ। প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত ক্লাবগুলোকে দেওয়া ‘প্যারাসুট পেমেন্ট’ সবসময়ই একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এগুলো ‘বিকৃত’ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবগুলোকে অতিরিক্ত খরচ করতে উৎসাহিত করে। তবে এগুলো কেন প্রয়োজনীয়, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে, ২০২৪-২৫ সালে শীর্ষ বিভাগ থেকে অবনমিত ক্লাবগুলোর আয়ে গড়ে ৭ কোটি পাউন্ড ঘাটতি দেখা গেছে। কোগান উল্লেখ করেছেন যে, আলোচিত চুক্তিতে ‘মেরিট রেক’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে ইএফএলকে দেওয়া সংহতি তহবিলের একটি অংশ লিগে অবস্থানের ভিত্তিতে প্রদান করা হবে।
“চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ ১০ অবস্থানে থাকা ক্লাবগুলো আরও বেশি অর্থ পাবে। অবনমিত ক্লাবগুলো, যাদের প্যারাসুট পেমেন্ট পাওয়ার কথা, তারা কম অর্থ পাবে এবং যে পার্থক্যটি ছিল, তা কমে ‘ওই’ (দুই হাত দূরে) হয়ে যাবে। “তিন বা চার বছর আগে ইএফএল যা চেয়েছিল, এটা কি তার সবকিছু অর্জন করবে? না।
তবে এটি সমস্যাটির সমাধানে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এখানে অনেকগুলো বিষয় সম্পৃক্ত আছে এবং আমরা আশা করি তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।”
মালিকদের অর্থায়নের ওপর ক্লাবগুলোর নির্ভরশীলতা মোকাবেলার জন্য, আইএফআর-এর লাইসেন্সিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ক্লাবগুলোকে একটি কর্মপরিকল্পনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে কীভাবে ‘উপযুক্ত আর্থিক সম্পদ’ সংক্রান্ত শর্তটি পূরণ করবে।
আইএফআর-এর অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম গ্রেট্রেক্স। তার মতে, এই প্রতিবেদনটি অবশ্যই একটি ‘সতর্কবার্তা’ হওয়া উচিত, যা ‘প্রকৃত ও স্থায়ী পরিবর্তন’ আনবে।
ডিসি/আপ্র/১৪/১০/২০২৬