ব্রাজিলের হয়ে আসন্ন বিশ্বকাপ খেলার জন্য কোন ২৬ জন খেলোয়াড় যাবে, সেই ঘোষণা সোমবার রাতে (বাংলাদেশ সময় ২টা) মিউজিয়াম অব টুমরোতে দেওয়া হবে।
৭০০ জন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এই স্কোয়াড জানিয়ে দেবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য দল ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের মনে নানান প্রশ্ন ঘুরছে। এন্দ্রিককে কি সুযোগ দেবেন আনচেলত্তি? দলে থাকবেন লুকাস পাকেতা? আর পেদ্রো?
তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন একটাই: নেইমার কি যাচ্ছেন নাকি যাচ্ছেন না? সব প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া না গেলেও এই স্কোয়াড নিয়ে একটি ব্যাপারে ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে: বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল এই শতাব্দিতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল ঘোষণা করতে যাচ্ছে।
গত সোমবার ফিফার কাছে সিবিএফ ৫৫ জনকে রেখে প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে ২০ জন খেলোয়াড় এরই মধ্যে অন্তত একটি বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং তাদের সবাই ছিলেন গত আসরে।
ওইবার স্কোয়াডে থাকা বাকি ছয় জনের মধ্যে কেবল দানিয়েল আলভেজ অবসর নিয়েছেন। রদ্রিগো ও এদার মিলিতাও নিশ্চিতভাবে ডাক পেতেন, কিন্তু ইনজুরিতে পড়েছেন তারা। কাতারের দলে থাকা মাত্র তিন জনকে (অ্যালেক্স তেলেস, ফ্রেড ও এভারটন রিবেইরো) শুধু জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা বিবেচনায় রাখেননি।
বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই ২০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৫ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিতই বলা চলে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, কাসেমিরো ও মারকুইনহোসের জায়গা শতভাগ নিশ্চিত। অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, ফ্যাবিনহো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিও বাইরে থাকার মতো খেলোয়াড় নয়।
এখন পর্যন্ত আনচেলত্তির কোনো দলে জায়গা না পাওয়া পেদ্রো ও নেইমারও টিকে যাওয়ার অপেক্ষায়। আক্রমণভাগে পাঁচ খেলোয়াড়কে তারা রাখতে পারে, যাদের বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আর মিডফিল্ডে পাঁচ বা ছয় জনের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলা চার জনকে রাখতে পারে তারা।
এই শতাব্দিতে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ দলের রেকর্ড গড়ার জন্য ব্রাজিলকে ‘সেই নিশ্চিত ১৫ জনকে’ রাখারও প্রয়োজন নেই। কারণ এর আগে সর্বোচ্চ এই সংখ্যা ছিল ১০ জন, ২০০৬ ও ২০২২ সালে। আরেক হিসাবে, এই শতাব্দিতে সবচেয়ে কম সংখ্যক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে।
২০০৬ সালে তারা সবচেয়ে কম ১৩ জন ‘নতুন মুখ’ রেখে এই রেকর্ড দখলে রেখেছে। অবশ্য সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেখা গেছে, সফলতা এসব পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে না।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের মিশনে তাদের সাত খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল। অন্যদিকে ফ্রান্স ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মাত্র ছয় জন অভিজ্ঞকে নিয়ে।
চার বছর আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানো জার্মানি স্কোয়াডে ছিল ১১ জন খেলোয়াড়, যাদের আগে অন্তত একটি আসরে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। ওই দল নিয়েই সেবার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানরা।
সে যাই হোক, অভিজ্ঞতার বিচারে এবার শক্তিশালী দল নিয়েই হেক্সা মিশনে নামবে ব্রাজিল।
ডিসি/আপ্র/১৮/০৫/২০২৬