গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই ব্যবহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বট অ্যাকাউন্টের শক্তি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০০ পিএম, ০৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৫ এএম ২০২৬
রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই ব্যবহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বট অ্যাকাউন্টের শক্তি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ হলো ‘বট’। শব্দটি মূলত ‘রোবট’ থেকে এসেছে। বট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টগুলো দেখতে সাধারণ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মতো হলেও এর পেছনে থাকে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম- যা নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করে। এসব অ্যাকাউন্ট মানুষের আচরণ অনুকরণ করে বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম। বট অ্যাকাউন্ট ও ফেক অ্যাকাউন্ট- দুটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তবে এ দুটির প্রকৃতি এক নয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বট অ্যাকাউন্টের শক্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয় নিয়েই এবারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাতার প্রধান ফিচার

বট অ্যাকাউন্ট হলো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট, যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী নিজে থেকেই পোস্ট করা, লাইক-কমেন্ট করা বা কনটেন্ট শেয়ার করার মতো কাজ সম্পন্ন করে। এসব অ্যাকাউন্টে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ খুব সীমিত বা থাকে না। বর্তমানে এসব বট অ্যাকাউন্টে এআই সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট কমান্ড সেট করে দিলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি করে পোস্ট করতে সক্ষম। শুধু পোস্টই নয়, পজিটিভ বা নেগেটিভ মন্তব্য করা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করার জন্য যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করে এসব বট অ্যাকাউন্ট।

বট কী: ROBOT শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ BOT (বট) । বট হলো এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং সত্যিকার ইউজারদের মতো আচরণ করে। কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন। বট ফার্ম বলতে মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট তৈরির সংঘবদ্ধ স্বয়ংক্রিয় প্রয়াসকে বোঝানো হয়। ভুয়া এই একাউন্টগুলো থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। ফেসবুক ও টুইটার প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর, ভুয়া ও বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়াই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

বট কেন: মূলত ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বট নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন-  বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল।

বট কীভাবে কাজ করে: বট এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সামাজিক গণমাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট চালায়। তারা আসল ইউজারদের মতো লাইক দেয়, কমেন্ট করে কিংবা পোস্ট করে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক গণমাধ্যম টুইটারেই বটের ছড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি। প্রায়ই ওই বটগুলোকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়।

কীভাবে বট চিহ্নিত করবেন: ইউজার প্রোফাইলটি ভালো করে খেয়াল করুন- যত কম ব্যক্তিগত তথ্য এটি দেবে, তত এটির বট হবার আশঙ্কা বেশি। কখনো বট বিদঘুটে নামের হয়। প্রোফাইলে সব ফেইক ছবি। তাদের বন্ধু /ফলোয়ার তালিকায় অন্যান্য বটরাই বটদের বন্ধু হয়। বটরা অনলাইনে প্রচুর একটিভ থাকে। তাদের মন্তব্য, পোস্টগুলো দেখবেন একটা নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একই টোনের হয়ে থাকে।

এত অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে কীভাবে পরিচালনা করা হয়: একাধিক বট অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে পরিচালনার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার, স্ক্রিপ্ট এবং অটোমেশন টুল ব্যবহার করা হয়। সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল সিস্টেম বা সার্ভারের মাধ্যমে শত শত, এমনকি হাজারো অ্যাকাউন্ট একযোগে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে ‘ফোন ফার্মিং’ নামের একটি পদ্ধতিও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে একটি স্থানে অনেকগুলো স্মার্টফোন একসঙ্গে স্থাপন করে প্রতিটি ফোনে আলাদা অ্যাকাউন্ট চালানো হয়। বিশেষ সফটওয়্যার বা রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ফোন একসঙ্গে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া আইপি অ্যাড্রেস গোপন রাখতে ভিপিএন বা প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করা হয়; যাতে একাধিক অ্যাকাউন্ট একই উৎস থেকে পরিচালিত হচ্ছে- এটি সহজে শনাক্ত করা না যায়।

‘বট অ্যাকাউন্ট’ ও ‘ফেক অ্যাকাউন্ট’: বট অ্যাকাউন্ট হলো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট- যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী নিজে থেকেই পোস্ট করা, লাইক-কমেন্ট করা বা কনটেন্ট শেয়ার করার মতো কাজ সম্পন্ন করে। এসব অ্যাকাউন্টে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ খুব সীমিত বা থাকে না। অন্যদিকে ফেক অ্যাকাউন্ট সাধারণত একজন বাস্তব মানুষই তৈরি ও পরিচালনা করে। তবে সেখানে ভুয়া নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা হয়।

করণীয় কী: অনলাইনে যে কোনো তথ্য একটু ঘেঁটে দেখে তারপর বিশ্বাসযোগ্যতায় পৌঁছানো। সন্দেহজনক কোনো সংঘবদ্ধ প্রচারনা চোখে পড়লেই চোখ-কান খোলা রেখে পর্যবেক্ষণ করা।

আপ্র/কেএমএএ/০৩.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার
২৮ অক্টোবর ২০২৬

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার

আস্ত গরু কিংবা ছোট গাড়ির ওজনের সমান ভার বহন করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত বিশাল এক মানবসদৃশ রো...

গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের
২৮ অক্টোবর ২০২৬

গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের

গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটারবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি জটিল সমস্যার সমাধানে নতুন অগ্রগতির দাব...

পুলিশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা
২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা

পুলিশি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য আরো গভীর হওয়ার আশঙ্ক...

ব্যবহারকারীর অজান্তে গুগল অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর, বন্ধ করবেন যেভাবে
২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবহারকারীর অজান্তে গুগল অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর, বন্ধ করবেন যেভাবে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাইন-ইন করা গুগল অ্যাকাউন্টগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিমের ফোন নম্বর যুক্ত ও যাচাই করছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে