গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

কক্ষপথে পৌঁছেছে ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০০ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪৮ এএম ২০২৬
কক্ষপথে পৌঁছেছে ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট
ছবি

শনিবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর রকেট ‘বিক্রম ১’-এর সফল উৎক্ষেপণ হয় -ছবি রয়টার্স

মহাকাশ বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর কক্ষপথে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা অর্জনকারী তৃতীয় দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

শনিবার (১৮ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করা হয়। ‘মিশন আগমন’ নামের এই প্রথম কক্ষপথভিত্তিক অভিযানে উৎক্ষেপণের প্রায় ১৬ মিনিট পর রকেটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার ওপরে নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে ছয়টি দেশি-বিদেশি উপগ্রহ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন করে।

নেভিগেশন-সংক্রান্ত সতর্কতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩৫ মিনিট দেরিতে রকেটটির উৎক্ষেপণ করা হয়। সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুট এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ শুরু করার আগে আরো কয়েকটি পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল রকেটটির জ্বালানি ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান, দিকনির্দেশনা, নেভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।

হায়দরাবাদভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। ২০২০ সালে ভারত সরকার মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বিকশিত হয়। চলতি বছর কোম্পানিটির বাজারমূল্য এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

স্কাইরুটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পবন কুমার চন্দনা বলেন, তারা এমন একটি সক্ষমতা তৈরি করতে চান, যাতে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানো ট্যাক্সি সেবার মতো সহজ হয়ে যায়। বর্তমানে অনেক সময় বড় রকেটের উৎক্ষেপণ সূচির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে স্কাইরুটের সেবা গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করবে।

‘বিক্রম-১’ রকেটটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাইয়ের নামে। প্রায় ২২ মিটার উচ্চতার এই রকেটের উপগ্রহ বহনের সক্ষমতা ৩৫০ কেজি। সম্পূর্ণ কার্বন যৌগিক কাঠামোয় তৈরি রকেটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি তরল ইঞ্জিন। প্রচলিত রকেট-গ্রেড ইস্পাতের তুলনায় এটি হালকা ও শক্তিশালী বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই অভিযানে মহাকাশের বর্জ্য অপসারণে ব্যবহারের সম্ভাব্য যান্ত্রিক হাত, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা এবং জার্মানির একটি উপগ্রহসহ মোট ছয়টি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বহন করা হয়। পাশাপাশি প্রতীকী কিছু উপাদানও পাঠানো হয়েছে মহাকাশে। এর মধ্যে ছিল গবেষণাগারে তৈরি হীরার পদ্মফুল ‘কসমিক ব্লুম’ এবং একটি ক্ষুদ্র সোনার রকেটের ভেতরে ভারতের তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, এ পি জে আবদুল কালাম ও বিক্রম সারাভাইয়ের চালের দানার চেয়েও ছোট ভাস্কর্য। রকেটটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি বার্তাও ছিল।

এর আগে ২০২২ সালে স্কাইরুট ‘বিক্রম-এস’ নামের একটি উপকক্ষপথীয় রকেটের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল।

দীর্ঘদিন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এককভাবে দেশটির মহাকাশ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ২০২০ সালের পর বেসরকারি খাতের জন্য এই খাত উন্মুক্ত করা হয়। এরপর দেশটিতে চার শতাধিক মহাকাশভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

ভারত সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশীদারত্ব বর্তমানের ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

স্কাইরুটের এই সাফল্যকে ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষার নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ শুরু করার আগে চলতি বছর আরো একটি পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করা হবে। হায়দরাবাদের কারখানায় প্রতি মাসে একটি করে রকেট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, এনডিটিভি

সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার
২৮ অক্টোবর ২০২৬

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার

আস্ত গরু কিংবা ছোট গাড়ির ওজনের সমান ভার বহন করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত বিশাল এক মানবসদৃশ রো...

গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের
২৮ অক্টোবর ২০২৬

গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের

গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটারবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি জটিল সমস্যার সমাধানে নতুন অগ্রগতির দাব...

পুলিশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা
২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা

পুলিশি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য আরো গভীর হওয়ার আশঙ্ক...

ব্যবহারকারীর অজান্তে গুগল অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর, বন্ধ করবেন যেভাবে
২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবহারকারীর অজান্তে গুগল অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর, বন্ধ করবেন যেভাবে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাইন-ইন করা গুগল অ্যাকাউন্টগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিমের ফোন নম্বর যুক্ত ও যাচাই করছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে