ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি ও স্টুডেন্ট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন শেখ মো. সাদী (৪১), মো. নাহিন (২৫) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৪ সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় জানান, ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ইতালি ও সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে চাকরি ও বসবাসের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে জনপ্রতি প্রায় একত্রিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়া হয়। শুরুতে ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর কথা থাকলেও পরে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ভিসা ও কাগজপত্র দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়, যা পরে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
চক্রটি পরবর্তীতে পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড ও সার্বিয়ার মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর নানা পরিকল্পনার কথা বলে ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্ত করে। কোথাও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কোথাও আবার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রেখে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে একটি স্থানীয় চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে দেশে ফিরে এসে তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
র্যাব-৪ জানায়, গ্রেফতাররা বিভিন্ন ট্রাভেল ও ইমিগ্রেশন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব প্রতারণা চালাত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, বিদেশগামীদের অর্থ লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬