ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত জনস্বাস্থ্য বিভাগের পানির ট্যাংক পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নে এ পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।
এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংকটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে সিংড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীপুর গ্রাম ও রানীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহের সুবিধা পাবেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ গ্রাহক পানির সংযোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৩০০ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হলেও প্রথম এক বছর কোনো বিল নেওয়া হবে না।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে ছয় শতাংশ জমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় নিরাপদ পানির উৎসের অনেক ঘাটতি রয়েছে। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।’
রানীগঞ্জ বাজারের একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী সুরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পানির এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি।’
৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে ছয় শতাংশ জমি প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণ হলে এ জমি দেওয়ার বিষয়টি আমরা সার্থক মনে করব। প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আরো বেশি গ্রাহককে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোকাররম হোসেন বলেন, ‘সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
সানা/আপ্র/১৭/৯/২০২৬