কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হেগভিত্তিক কসোভো বিশেষজ্ঞ চেম্বারের একটি ট্রাইব্যুনাল। স্থানীয় সময় বুধবার (২১৬ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৮-৯৯ সালে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে কসোভোর স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কসোভো লিবারেশন আর্মির শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নিষ্ঠুর আচরণ ও বেআইনি আটকসহ বিভিন্ন অপরাধে থাচিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিলের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, কসোভো লিবারেশন আর্মির সদস্যদের সংঘটিত অপরাধের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সার্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। এসব অপরাধের মধ্যে ৯৬ জনকে হত্যার পাশাপাশি ৩৮৫ জনকে বেআইনিভাবে আটক এবং বহু মানুষকে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণের শিকার করার ঘটনাও রয়েছে।
মামলাটিতে থাচির সঙ্গে কসোভো লিবারেশন আর্মির আরো তিন শীর্ষ নেতা কাদরি ভেসেলি, রেক্সহেপ সেলিমি ও জাকুপ ক্রাসনিচির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, কারাবন্দি করা, অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড, নির্যাতন, হত্যা ও জোরপূর্বক নিখোঁজের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বেআইনি ও নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, নিষ্ঠুর আচরণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ছিল।
কসোভো বিশেষজ্ঞ চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ শেষ হয় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পক্ষগুলোর সমাপনী বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় আদালতে ১৩৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মূল মামলায় প্রসিকিউশন থাচির জন্য ৪৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। তবে বিচারকরা কয়েকটি অভিযোগে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সেগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করেননি। একই সঙ্গে তাঁরা রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের লক্ষ্যে থাচি ও তাঁর সহঅভিযুক্তদের একটি যৌথ অপরাধমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
হাশিম থাচি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছিলেন।
কসোভোর সাম্প্রতিক ইতিহাসে থাচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র। কসোভো লিবারেশন আর্মির নেতা হিসেবে তিনি ১৯৯৮-৯৯ সালের সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ১৯৯৯ সালের শান্তি আলোচনায় কসোভোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তিনি দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; পরে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন।
হেগে অবস্থিত কসোভো বিশেষজ্ঞ চেম্বার ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কসোভোর যুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। থাচি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২০ সালে অভিযোগপত্র অনুমোদনের পর শুরু হয় এবং একই বছরের নভেম্বরে তাঁদের হেগে আটক করা হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৯/২০২৬