সাংবাদিক এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২-এর উপধারা ২ অনুযায়ী এহসান মাহমুদকে মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে এহসান মাহমুদকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে।
সাংবাদিকতায় এহসান মাহমুদ দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন ও নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গণভবনে প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরটি গত ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬ দ্বারা রহিত হয়। আইনটি ১০ এপ্রিল ২০২৬ প্রণীত হয়।
আইন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন জাদুঘরটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর সংগ্রহে আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিলপত্র, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ওই দিন গণভবনে জনতার প্রবেশের পর সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্ট জাদুঘর উদ্বোধনের পরদিন, ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক প্রদর্শন করা হচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৬/৯/২০২৬