একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। যৌথ সমন্বয়ে গঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ দলের উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আনোয়ারা উপজেলায় জনসচেতনতামূলক র্যালি, ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা থানার একটি পুকুর পরিষ্কার করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী এ ধরনের অভিযান চলবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি সদর সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনোয়ারা থানায় গিয়ে শেষ হয়। পরে থানার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা পুকুরটি পরিষ্কারে অংশ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার এবং আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ রোগের বিস্তার রোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ময়লা-আবর্জনাও নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নির্ধারিত স্থানে ময়লা না ফেলে রাস্তায় ফেললে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুতে যারা মারা গেছেন, তারা আমাদেরই ভাই কিংবা নিকটাত্মীয়। এভাবে আর কারও প্রাণহানি হোক, তা তারা চান না।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, থানার ভেতরে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে নালা-নর্দমা পর্যন্ত সব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সবাই মিলে থানার পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানার আশপাশের জঙ্গলও পরিষ্কার করা হবে। নিজেদের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। এ সময় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬