জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় নিতে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর বঙ্গোপসাগরীয় শিল্পোন্নয়ন উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ও উঠে আসে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’তে পৌঁছালে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন দিগন্ত: বৈঠকে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে জাপানের বেসরকারি খাতের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নত করতে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
‘বিগ-বি’ উদ্যোগে যৌথ সমৃদ্ধির প্রত্যয়: বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশ ও জাপান বিশেষ অংশীদারত্বমূলক ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে উদ্যোগটি ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে দুই দেশ। মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলকে ঘিরে শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে এ পরিকল্পনায়।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘোষণায় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে; এটি নিশ্চিত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য হবে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। এ জন্য যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা: দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত প্রযুক্তি পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেঘভিত্তিক গণনা, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রকৌশল এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
দ্রুতগতির রেল ও উড়াল সড়কের পরিকল্পনা: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়ানো, দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং সহযোগিতার অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের চুক্তি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি ও এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি স্থাপনা ও আধুনিক পণ্য পরিবহনকেন্দ্র পরিদর্শন: দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো সরেজমিনে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জেবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এ পরিদর্শনে।
পরে স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টায় চিবা অঞ্চলের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু পণ্য পরিবহনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। নিপ্পন এক্সপ্রেস কোম্পানির অধীনে পরিচালিত এ কেন্দ্রটি আধুনিক বহুমাধ্যমভিত্তিক পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।
সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয়: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ককে আরো গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে শীর্ষ বৈঠক, যৌথ ঘোষণা এবং জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র সামনে এসেছে। বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬