মোজাম্মেল হক নয়ন: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনিক সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুমাউন কবির।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জামান তন্মী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল গফুর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ শাহ ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম।
এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন, রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদকপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ শরীফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েত হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হাসান শেখ তনা, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক কাওছার হামিদ ও দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হক নয়ন সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও অংশ নেন।
সভায় সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমস্যা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি ও পর্যটন খাতে যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। এখানে আগাম আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও সংরক্ষণের জন্য হিমাগার না থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় হিমাগার স্থাপন এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
বক্তারা আরো বলেন, উপজেলায় বাফলার বিল, নীলসাগরসহ একাধিক সম্ভাবনাময় স্থান রয়েছে, যেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ আছে। সরকারি উদ্যোগে এসব স্থানের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
কিশোরগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, বাজারের সরকারি সম্পত্তি দখল করে একশ্রেণির ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করছেন। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ ছাড়া উপজেলায় মোবাইল ফোনে জুয়া, ক্যাসিনো, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে তরুণদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। যুবসমাজকে অপরাধ থেকে রক্ষা করতে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হুমাউন কবির প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে ক্লাস্টার প্রধানদের মনোযোগ দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তার আওতায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী নন এমন কেউ যেন ভুল তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত না হন। একই সঙ্গে প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ যেন ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যাঁদের জমি নেই, তাঁরা যেন কৃষক কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সানা/আপ্র/২৮/১০/২০২৬