নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে দেশের মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র বেশ জনপ্রিয়। সংসারের বাড়তি আয়, ভবিষ্যতের সঞ্চয় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগ করেন।
তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ম না জেনে সঞ্চয়পত্র কিনলে প্রত্যাশিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।
চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন কিংবা আপৎকালীন খরচের জন্য রাখা টাকা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙালে নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই যে টাকা অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে, তা সঞ্চয়পত্রে আটকে না রাখাই ভালো।
বিনিয়োগের সীমা না জানা
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বিনিয়োগে প্রযোজ্য মুনাফার হার সম্পর্কে না জেনে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশার চেয়ে কম আয় হতে পারে। তাই কেনার আগে বিনিয়োগসীমা ও প্রযোজ্য মুনাফার হার যাচাই করা জরুরি।
করসংক্রান্ত নিয়ম উপেক্ষা করা
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণসংক্রান্ত নিয়ম না জানলে বেশি হারে কর কাটা হতে পারে। ফলে প্রকৃত মুনাফা কমে যায়। তাই কেনার আগে নিজের করসংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রযোজ্য বিধান জেনে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজন অনুযায়ী স্কিম নির্বাচন না করা
সব সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়ার নিয়ম এক নয়। কোনো স্কিমে মাসিক, কোনোটি তিন মাস অন্তর, আবার কোনোটি মেয়াদ শেষে মুনাফা দেয়। তাই নিয়মিত সংসার খরচের জন্য আয় প্রয়োজন, নাকি ভবিষ্যতের জন্য এককালীন অর্থ জমাতে চান তা বিবেচনা করে স্কিম নির্বাচন করতে হবে।
সব সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ না করা
ভবিষ্যতের পুরো সঞ্চয় শুধু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে জরুরি প্রয়োজনে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকি বিবেচনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মধ্যে সঞ্চয় ভাগ করে রাখা ভালো।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক সক্ষমতা, টাকার প্রয়োজন, মেয়াদ ও করের বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিকল্পিত বিনিয়োগই নিশ্চিত করতে পারে সঞ্চয়ের সর্বোচ্চ সুফল।
এসি/আপ্র/০৭/১১/২০২৬