গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

মেনু

অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সরকার নিরসল কাজ করে যাচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৯:১১ এএম ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সরকার নিরসল কাজ করে যাচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ‘চরচা’ আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, নতুন বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও জনগণের নাগালের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর, গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। সঞ্চালনা করেন চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের দর্শন হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিনিয়োগ বাড়াতে তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির চেয়ে অপচয় বেড়েছে। দুর্নীতির পাশাপাশি অপচয় রোধ করতে হবে। প্রকল্পগুলো সময়মতো নিতে হবে এবং সেগুলো সময়মতোই শেষ করতে হবে। নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্ব হয়, এতে অপচয় বেড়ে যায়। কাজেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে।

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ভিয়েতনামের মতো ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নীতির অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। তাই অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল কর নীতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাসিম মঞ্জুর বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সমালোচনা করে বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি কর প্রশাসনে ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেসড) অডিট ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান।

গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি। তিনি কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালেও কৃষকদের ধান শুকানোর জন্য রোদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কৃষকের দোরগোড়ায় সুলভ মূল্যে ক্রপ ড্রায়ার, কম্বাইন্ড হারভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাহা মির্জা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে কৃষি প্রণোদনা ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে চলে যায়। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো, সারের গুদাম নির্মাণ এবং দুধ ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও প্রিজারভেশন সেন্টার স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবমুখী ও সংস্কারমুখী হতে হবে। তারা কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের সমন্বিত উদ্যোগই বাংলাদেশকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে।

এসি/আপ্র/০৭/০৬/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ভর্তুকি চাপে জীবনযাত্রায় নতুন অনিশ্চয়তা
০৬ জুন ২০২৬

ভর্তুকি চাপে জীবনযাত্রায় নতুন অনিশ্চয়তা

বিশেষ প্রতিনিধি: ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হাজার মাইল দূরে হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশের সাধা...

অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে মিলল বড় সুখবর
০৬ জুন ২০২৬

অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে মিলল বড় সুখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার মধ্য...

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন
০৬ জুন ২০২৬

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন...

ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর
০৪ জুন ২০২৬

ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ঢাকা আর বাসযোগ্য নেই, সব রোগের মূল বুড়িগঙ্গা

রাজধানী ঢাকার বর্তমান পরিবেশ ও নাগরিক দুরবস্থা নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এটা (ঢাকা) আর বাসযোগ্য মনে হয় না। ঘর থেকে বেরোলেই নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না, চারদিকে দূষিত বাতাস। আমার তো মনে হয়, ঢাকার সব রোগের মূলেই বুড়িগঙ্গা। আপনি কি মন্ত্রীর এই বক্তব্যে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে