গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নির্বাচনী ভাষণে দায় স্বীকার ও দায় এড়ানোর রাজনীতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৪:২০ এএম ২০২৬
নির্বাচনী ভাষণে দায় স্বীকার ও দায় এড়ানোর রাজনীতি
ছবি

বিটিভিতে নির্বাচনী ভাষণ দিয়েছেন চার নেতা -ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের জাতির উদ্দেশে ভাষণদান একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা হিসেবে সামনে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এটি যেমন রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তেমনি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান, আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণের সুযোগও তৈরি করে।

এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রচারিত ভাষণগুলোর মধ্যে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল-অতীত শাসনামলের ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি’র জন্য প্রকাশ্য দুঃখপ্রকাশ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমা প্রার্থনা বা দায় স্বীকার খুব একটা দেখা যায় না। সে বিবেচনায় এটি একটি ব্যতিক্রমী বার্তা। একই সঙ্গে তিনি আইনের শাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ধর্মীয় সহনশীলতার কথা বলেছেন, যা মূলধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়-সেই ভুলগুলোর প্রকৃতি কী ছিল, সেগুলো থেকে কীভাবে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কী প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা থাকবে-এসব প্রশ্নের উত্তরই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের আকাঙক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রবিরোধী অবস্থান এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নাগরিক অধিকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কাঙিক্ষত রাষ্ট্রকাঠামোর বর্ণনা থাকলেও দলটির অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো নিয়ে কোনো আত্মসমালোচনা বা দায় স্বীকার অনুপস্থিত ছিল। ফলে ভাষণের রাজনৈতিক পরিপূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

দুটি ভাষণ মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট-বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই আস্থা অর্জনের জন্য ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অতীতের দায় স্বীকার, স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন রয়েছে। ভোটাররা কেবল সুন্দর ভাষণ নয়, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে চান।

নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়; এটি রাজনৈতিক সংস্কার ও পরিণত গণতন্ত্রের পরীক্ষাও। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণগুলো সেই পরীক্ষার একটি সূচনামাত্র। শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবেন-কে তাদের আস্থা অর্জনে কতটা সফল হলো। আমাদের প্রত্যাশা-আত্মসমালোচনাবোধ জাগ্রত হোক প্রত্যেক দলের নেতাদের মধ্যে। আর এই শুভবোধের মধ্যদিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করুক সুস্থধারার গণতন্ত্র।

সানা/আপ্র/১১/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে