নারীদের চেহারা, শরীর, বয়স কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হাসি-তামাশা ও কনটেন্ট তৈরির প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। তাঁর মতে, নারীদের নিয়ে এ ধরনের বিষয়কে রসিকতা কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এমন কনটেন্ট তৈরি ও দেখার মাধ্যমে যারা সেটিকে জনপ্রিয় করে তুলছেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় অবস্থান তুলে ধরেন হানিয়া। তিনি লেখেন, ‘২০২৬ সালে নারীদের শরীর, চেহারা, সৌন্দর্য, বয়স ও ব্যক্তিগত জীবনকে রসিকতার বিষয় বানানো হাস্যকর।’
হানিয়ার মতে, কোনো বিষয়কে ‘মতামত’ বা ‘হাস্যরস’ বললেই সেটি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। মন্তব্য করা এবং কোনো নারীর ব্যক্তিগত জীবনকে বিনোদনের উপকরণ বানানোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, মানুষের বলা কথার প্রভাব শুধু সেই মুহূর্তে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি যখন কোনো মন্তব্য করেন, তখন তার অনুসারীদের ওপরও সেটির প্রভাব পড়ে।
হানিয়ার ভাষায়, ‘আপনি শূন্যে কথা বলছেন না। আপনি অন্যরা কোন বিষয়কে স্বাভাবিক, মজার ও গ্রহণযোগ্য মনে করবে, সেটি তৈরি করছেন।’
শুধু কনটেন্ট নির্মাতাদের নয়, দর্শকদেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হানিয়া। তার মতে, লাখো মানুষ এসব কনটেন্ট দেখছে এবং সম্মিলিতভাবে মানুষই নির্ধারণ করছে নারীদের সম্পর্কে কী ধরনের কথা বলা গ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি সংগীতেও অভিষেক হওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, সমাজের কাছ থেকে ভালো আচরণ প্রত্যাশা করার পাশাপাশি সেই আচরণের বিপরীত বিষয়কে জনপ্রিয় করে তোলা উচিত নয়।
নারীদের বিষয়ে নিজের অবস্থান আরো স্পষ্ট করে হানিয়া বলেন, ‘নারীরা কারো সম্পত্তি নয়। তাদের শরীর জনসমক্ষে মন্তব্য করার বিষয় নয়, আর তাদের চেহারাও জনসমক্ষে আলোচনার উপকরণ হওয়া উচিত নয়। এতদিনে আমাদের এসব থেকে এগিয়ে আসা উচিত ছিল।’
এ ধরনের কনটেন্ট জনপ্রিয় না করার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কনটেন্টকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া বন্ধ করুন। নারীদের নিয়ে তামাশা করা এবং সেটিকে বিনোদন বলা বন্ধ করুন। আমরা এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারি।’
তবে হানিয়া তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কনটেন্ট নির্মাতার নাম উল্লেখ করেননি। তার এই মন্তব্যের সময় ভারতে অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। সন্তান জন্মের পর দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসার পর তাকে নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের মন্তব্য করা হয়।
পাকিস্তানেও নারীদের নিয়ে অনলাইনে বিদ্রূপ ও নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে এর আগে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী জালাই সারহাদি ও আমনা ইলিয়াস। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এ ধরনের আচরণের প্রভাব শুধু পরিচিত নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজের অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাসম্পন্ন নারীরাও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এসি/আপ্র/১৯/৯/২০২৬