দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসে হাম ও সন্দেহজনক উপসর্গে ১৯৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৩২ জন নিশ্চিত হামে এবং ১৬৬ জন সন্দেহজনক উপসর্গে মারা গেছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় ৯৪ জনের, রাজশাহীতে ৬৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে ‘ক্যাচ-আপ’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে আট দিনে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে যেসব এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়নি, সেখানে টিকাদান শুরু হবে। হাসপাতালগুলোতে আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা, ওষুধ সরবরাহ ও জরুরি প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, টিকাদানের ঘাটতি ও নিয়মিত ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়েছে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। আগে যেখানে ৯৭–৯৮ শতাংশ শিশু টিকা পেত, তা এখন কমে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
টিকা নেওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা অভিভাবকরা জানান, হামের আতঙ্ক কমাতে দ্রুত টিকাদান উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
সরকার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও সর্বাত্মক টিকাদান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই বর্তমানে এই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
সানা/আপ্র/১৫/৪/২০২৬