গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪১ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৩ এএম ২০২৬
হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু
ছবি

টিকাদানের ঘাটতি ও নিয়মিত ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে -ফাইল ছবি

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসে হাম ও সন্দেহজনক উপসর্গে ১৯৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৩২ জন নিশ্চিত হামে এবং ১৬৬ জন সন্দেহজনক উপসর্গে মারা গেছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় ৯৪ জনের, রাজশাহীতে ৬৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে ‘ক্যাচ-আপ’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে আট দিনে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে যেসব এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়নি, সেখানে টিকাদান শুরু হবে। হাসপাতালগুলোতে আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা, ওষুধ সরবরাহ ও জরুরি প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, টিকাদানের ঘাটতি ও নিয়মিত ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়েছে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। আগে যেখানে ৯৭–৯৮ শতাংশ শিশু টিকা পেত, তা এখন কমে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

টিকা নেওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা অভিভাবকরা জানান, হামের আতঙ্ক কমাতে দ্রুত টিকাদান উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি ছিল।

সরকার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও সর্বাত্মক টিকাদান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই বর্তমানে এই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ। 

সানা/আপ্র/১৫/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় আমড়া
০১ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় আমড়া

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের
০১ আগস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ...

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০১ আগস্ট ২০২৬

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্...

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই