বিশ্বকাপের মঞ্চে একদিনে যদি তিনটি আলাদা গল্প লেখা হয়, তবে সেটি শুধু ফুটবল নয়-একটি বিশ্বব্যাপী উৎসব। সেই উৎসবের কেন্দ্রে ছিলেন তিন সুপারস্টার: কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড এবং লিওনেল মেসি।
একদিকে এমবাপে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয়ের পথে রাখলেন, অন্যদিকে অভিষেক বিশ্বকাপে হলান্ডও দেখালেন নিজের দুই গোলের ঝলক। কিন্তু দিনের শেষ আলোটা যেন নিজের হাতেই নিয়ে নিলেন লিওনেল মেসি-এক অনন্য হ্যাটট্রিকে।
দিনের শুরুতেই এমবাপে ছিলেন তার চেনা ছন্দে। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে কিছুটা নীরব থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৬৬তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করে নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের জয়। ম্যাচে তার বুলেটগতির শট ও ধারাবাহিক আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার বিপর্যস্ত করে দেয়।
অন্যদিকে বস্টনে ইরাকের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই আলো ছড়ান আর্লিং হলান্ড। প্রথমার্ধেই দুটি গোল করে জানান দেন, বিশ্বমঞ্চেও তিনি একই রকম ভয়ঙ্কর। পুরো ম্যাচে তার অবদান ছিল তিনটি গোলের সমান প্রভাবশালী অংশীদারিত্ব, যার ফলে নরওয়ে জেতে চার এক ব্যবধানে।
এই দুই তারকার ঝলক যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে, তখনই শুরু হয় মেসির অধ্যায়। বয়স, চোট, সমালোচনা-সব প্রশ্নের উত্তর যেন তিনি রেখে দেন মাঠেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে তিনটি গোল করেন তিনি, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।
ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে শুরু করেন মেসি। এরপর একের পর এক আক্রমণে ভেঙে দেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ। এই ম্যাচে তিনি শুধু গোলই করেননি, বরং রচনা করেছেন নতুন ইতিহাস-ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার এবং ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করা একমাত্র আর্জেন্টাইন।
গোলসংখ্যার দিক থেকেও এই দিনটি হয়ে থাকে বিশেষ। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান অবস্থানে পৌঁছে যান তিনি। একই সঙ্গে বক্সের বাইরে থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরো একবার প্রমাণ করেন।
মেসির এই পারফরম্যান্স শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে-এই বয়সেও কীভাবে একজন খেলোয়াড় এতটা প্রভাবশালী থাকতে পারেন।
দিনের শুরুতে এমবাপে, মাঝপথে হলান্ড এবং শেষে মেসি-এই তিন ভিন্ন গল্প মিলেই তৈরি হয় এক অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ অধ্যায়। একদিকে ভবিষ্যতের তারকা, অন্যদিকে বর্তমানের রাজা এবং তৃতীয় দিকে সর্বকালের সেরার দাবিদার-তিনজনের এই উপস্থিতিতে যেন বিশ্ব ফুটবল একসঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে দেখল একই দিনে।
স্টেডিয়াম থেকে টাইমজোন-সব জায়গা একাকার করে দেওয়া এই দিনে ফুটবল হয়ে ওঠে সত্যিকারের বৈশ্বিক ভাষা। গোল, রেকর্ড আর আবেগের এই মালায় যেন থমকে যায় সময়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৬/২০২৬