ইংলিশ চ্যানেল ঘিরে এক দিনে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী আগমন এবং রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ছোট নৌকায় করে এক দিনে ৭১০ জন অভিবাসী চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ আগমন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েক দিন কোনো অনিয়মিত আগমন না থাকলেও এই বড় দলটির মাধ্যমে সেই ধারায় পরিবর্তন আসে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫২ জন অভিবাসী অনিয়মিতভাবে ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়িয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লন্ডন ও প্যারিসের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে তিন বছর মেয়াদি নতুন চুক্তিও কার্যকর রয়েছে।
একই সময় ইংলিশ চ্যানেল এলাকায় রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ও একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানকে ঘিরে পৃথক একটি ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ব্রিটিশ এক দম্পতিকে বহনকারী নৌযানকে লক্ষ্য করে রুশ যুদ্ধজাহাজ সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, নৌযানটি তাদের যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে ছিল এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নৌযানে থাকা ব্যক্তিরা এই দাবি অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এটিকে গভীর উদ্বেগজনক ও বেপরোয়া ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এতে কোনো রহস্যজনক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত নেই, তবে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই অঞ্চলে অভিবাসন সংকট ও সামরিক উত্তেজনার এই সমান্তরাল পরিস্থিতি ইংলিশ চ্যানেলকে নতুন করে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৬/২০২৬