আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বলেছিলেন, লিওনেল মেসি এখনো দলের জন্য “অপরিহার্য”। বয়স, চোট আর প্রশ্ন-সবকিছুর জবাব যেন এক ম্যাচেই দিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
৩৯ ছুঁইছুঁই বয়স, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ফেরা-সব সংশয়ের মাঝেও বিশ্বকাপ মঞ্চে নেমে দারুণ এক হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন মেসি। ম্যাচজুড়ে তার নৈপুণ্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি কোনোভাবেই দলের বোঝা নন; বরং এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে পুরো তিনটি গোলই করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন তিনি। একই সঙ্গে ছুঁয়ে ফেললেন একাধিক মাইলফলক-২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড এবং সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান অবস্থান।
ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, প্লেমেকিং এবং নেতৃত্বে তিনি ছিলেন সর্বত্র। ৮০তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত শুধু গোলই নয়, রক্ষণে নেমে সহায়তা করাও ছিল তার সক্রিয় ভূমিকার অংশ।
ম্যাচ শেষে সতীর্থ রদ্রিগো দে পল বলেন, মেসি শুধু গোল করেন না, পুরো দলকে পরিচালনা করেন। তার মতে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যই মেসির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, মেসি এখনো দলের জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সেই আস্থার প্রতিদান যেন মাঠেই দিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, দুই দশক ধরে একই উচ্চতায় খেলা মেসিকে দেখা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সমর্থকদের মাঝেও ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরা বারবার দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান মেসিকে। শেষ মুহূর্তে বদলি হওয়ার সময়ও তাকে ঘিরে ছিল করতালি আর শ্রদ্ধা।
মেসির এই পারফরম্যান্সকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের আবহও। বয়সের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই তারকার এমন পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার শিরোপা অভিযানে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রশ্ন ছিল মেসি কি এখনো দলের জন্য অপরিহার্য? উত্তরটা তিনি দিয়ে দিলেন মাঠে-তিন গোল, অসংখ্য মুহূর্ত আর এক অবিস্মরণীয় বার্তা দিয়ে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৬/২০২৬