অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে জাল ও ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স ব্যবহার করে অস্ত্র সংগ্রহের এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রংপুরে। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ, আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ৭০ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কর আইনজীবী ও সরকারি অনুমোদিত অস্ত্র ডিলার আনোয়ার হোসেন বাবু।
সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের নির্দোষিতার কথা তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা এবং সরকারি নিবন্ধিত অস্ত্র ডিলার আনোয়ার হোসেন বাবুর সঙ্গে কয়েক বছর আগে মিঠাপুকুর উপজেলার শংকরপুর (বালারহাট) গ্রামের মৃত নসিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রেজ্জাকুল ইসলাম তুহিনের (৪৫) পরিচয় হয়। নিজেকে সাবেক সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তুহিনের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়।
আনোয়ার হোসেন বাবুর দাবি, বয়সজনিত দুর্বলতা ও শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তুহিন অস্ত্র ব্যবসার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অস্ত্রের লাইসেন্স এনে তার কাছ থেকে নিয়ম মেনে অস্ত্র সংগ্রহ করতে থাকেন। লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তুহিন নিজেকে শনাক্তকারী হিসেবে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক ও বৈধ বলে তাকে আশ্বস্ত করতেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, তুহিন নামমাত্র মূল্যে-প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে-জাল লাইসেন্সের বিপরীতে একাধিক অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক তদন্তে এসব লাইসেন্সের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং একপর্যায়ে জানা যায়, উপস্থাপিত বেশ কয়েকটি লাইসেন্সই ছিল ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তৈরি।
আনোয়ার হোসেন বাবুর অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মূল প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজেই আইনি জটিলতায় পড়ে যান। জাল লাইসেন্স সম্পর্কে কোনো পূর্ব ধারণা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার হতে হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাভোগ করতে হয়েছে।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনজীবী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তুহিন তার বার্ধক্য ও অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে ফেলেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি নিজেই এই প্রতারণার শিকার; অথচ তাকেই কারাবরণ ও সামাজিক অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রবীণ এই নাগরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার দাবি, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে রেজ্জাকুল ইসলাম তুহিনসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে জীবনের শেষ সময়ে এসে একজন নির্দোষ ও প্রতারণার শিকার নাগরিক হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার পান।
সানা/আপ্র/২/৮/২০২৬