সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ইরানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং ইয়েমেনের হুতিদের হুমকি মোকাবিলায়-এমনটা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রোববার (২ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু ধর্মীয় বা হজ-ওমরার সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সেই সম্পর্ককে কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি না। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে কৌশলগত এবং এটি খুবই মজবুত সম্পর্ক হবে।”
তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরব যেকোনো সময় সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে পাশে থাকবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, “মূলত এটি হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি জোট। তবে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথা বলছি। তাই এমন নয় যে, ইরানকে আক্রমণ করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের হামলার হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ এই জোটে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে এবং কোনো সামরিক সদস্য পাঠানো হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটি হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য গঠিত জোট। প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের যে সক্ষমতা ও সম্পদ রয়েছে, সে অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত হবে এবং দুই দেশের সহযোগিতা কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২/৮/২০২৬