যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের-এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এর চেয়েও দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের।
বুধবার (১ এপ্রিল) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয় এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিকে নাকচ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। কেবল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে, যা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে পড়ে না।
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে আরাঘচি জানান, সীমিত বা সাময়িক বিরতিতে তারা সন্তুষ্ট নয়। সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হওয়া, পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নই আসে না।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান লক্ষ্য হলো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরো কঠোর কৌশল গ্রহণ করা হবে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীমা এবং যুদ্ধাবস্থায় শত্রুপক্ষের জন্য এটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য স্থল অভিযান বা যুদ্ধ সম্প্রসারণ নিয়েও ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শত্রুপক্ষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, বরং নিজেদের রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং শত্রুর শক্তি ক্ষয় করছে।
আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, যারা যুদ্ধ শুরু করেছে তারাই এখন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তিনি দাবি করেন, ইরান সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে চলেছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহযোগিতা জরুরি এবং বিদেশি সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৪/২০২৬