ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই শিক্ষাগত ও নিবন্ধন সনদ জাল।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ শাখার ৬১ জন শিক্ষকই ভুয়া এবং স্কুল শাখার ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের পেছনে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
ডিআইএর তথ্যমতে, অধ্যক্ষ তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, আত্মীয়-স্বজন এমনকি ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তদন্তে এসব নিয়োগে জাল সনদ, ভুয়া নথি ও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিয়োগের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুস নেওয়া হতো। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার একটি অংশও আত্মসাত করা হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) জরিপে এসব শিক্ষকের নাম না থাকলেও ২০২২ সালে হঠাৎ করে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ডিআইএ জানিয়েছে, ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখায় চার কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার এবং স্কুল শাখায় এক কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকা বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে আরো উঠে এসেছে, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের নিজের শিক্ষাগত সনদও জাল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাই করে তার ব্যবহৃত সনদের তথ্য অসত্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সনদ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, দেশে ওই নামে কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় নেই বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, তদন্ত একপেশে হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক সহিদুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত সূক্ষ্ম তদন্তে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এসি/আপ্র/১৯/০৫/২০২৬