গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

ময়মনসিংহের এক কলেজের ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই সনদ জাল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০৪ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:০১ এএম ২০২৬
ময়মনসিংহের এক কলেজের ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই সনদ জাল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই শিক্ষাগত ও নিবন্ধন সনদ জাল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ শাখার ৬১ জন শিক্ষকই ভুয়া এবং স্কুল শাখার ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের পেছনে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

ডিআইএর তথ্যমতে, অধ্যক্ষ তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, আত্মীয়-স্বজন এমনকি ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তদন্তে এসব নিয়োগে জাল সনদ, ভুয়া নথি ও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিয়োগের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুস নেওয়া হতো। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার একটি অংশও আত্মসাত করা হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) জরিপে এসব শিক্ষকের নাম না থাকলেও ২০২২ সালে হঠাৎ করে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ডিআইএ জানিয়েছে, ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখায় চার কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার এবং স্কুল শাখায় এক কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকা বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্তে আরো উঠে এসেছে, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের নিজের শিক্ষাগত সনদও জাল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাই করে তার ব্যবহৃত সনদের তথ্য অসত্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সনদ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, দেশে ওই নামে কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় নেই বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, তদন্ত একপেশে হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক সহিদুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত সূক্ষ্ম তদন্তে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এসি/আপ্র/১৯/০৫/২০২৬

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
০২ জুলাই ২০২৬

কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বন্ধে আইন করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশ...

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিশাল সুখবর
০২ জুলাই ২০২৬

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিশাল সুখবর

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই।বৃহস্পতিবার (২ জ...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, কেন্দ্রে কড়া নজরদারি
০২ জুলাই ২০২৬

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, কেন্দ্রে কড়া নজরদারি

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা দেশে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে মাদ্রা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই