আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং বরখাস্ত হওয়া মোট ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাদের অনেকেই বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীও এ তালিকায় রয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে বিবেচনায় নিয়ে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে তারা চাকরিজীবনে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন-এ কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০০৯ সালের ২৪ জুন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়। তখন তাকে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে অকালীন বাধ্যতামূলক অবসরে রাখা হয়।
এবার নতুন সিদ্ধান্তে তাকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল এবং ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবসরের আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও মেজর জেনারেল উভয় পদের বকেয়া বেতন-ভাতা, বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, এক কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং বয়স ও যোগ্যতাসাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া সাবেক এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমিও এ তালিকায় রয়েছেন। তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে তাকে স্বাভাবিক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
এই ১৫০ জন কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেককে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে এককালীন ৫০ লাখ টাকা, আবার কারও জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বয়স ও যোগ্যতাসাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিগত সরকারের সময়ে ‘বঞ্চনার শিকার’ সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে ওই কমিটি ১৫০ জনকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর প্রদানের সুপারিশ করে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩/৭/২০২৬