গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বন্ধু থেকে শত্রু, শিম্পাঞ্জিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫২ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৫ এএম ২০২৬
বন্ধু থেকে শত্রু, শিম্পাঞ্জিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে বসবাসকারী ‘এনগোগো’ শিম্পাঞ্জি দলের মধ্যে নজিরবিহীন সহিংসতা ও বিভক্তি দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ দুই দশকের সহাবস্থান ভেঙে একসময়ের ঘনিষ্ঠ সদস্যরাই এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলায় লিপ্ত।

১৯৯৫ সাল থেকে গবেষণাধীন এ বৃহত্তম বন্য শিম্পাঞ্জি দলটি একসময় প্রায় দুইশ সদস্যে পৌঁছেছিল। সাধারণত একটি শিম্পাঞ্জি দলে যেখানে ৫০ জনের মতো সদস্য থাকে, সেখানে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরবর্তী অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের দিকে দলটির ভেতরে উত্তেজনা তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে দুটি উপদলে বিভক্ত হয়-‘ওয়েস্টার্ন’ ও ‘সেন্ট্রাল’। বিভক্তির পর ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সহিংসতা, যেখানে ওয়েস্টার্ন দলের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে সেন্ট্রাল দলের ওপর হামলা চালাতে থাকে।

এ হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত নৃশংস। আক্রমণকারীরা শিকারকে কামড়ানো, মারধর, টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া এবং মাটিতে আছড়ে ফেলার মতো আচরণ করেছে। এসব হামলায় মূলত পূর্ণবয়স্ক পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা অংশ নিলেও মাঝে মাঝে স্ত্রী শিম্পাঞ্জিদেরও দেখা গেছে।

২০২৪ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও ১৭টি শিশুসহ মোট ২৪টি শিম্পাঞ্জির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময় আরো চারটি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮। এছাড়া অনেক সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যসংকট, স্ত্রী শিম্পাঞ্জিদের নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং দলের আকার অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়া-এসব কারণ মিলেই সংঘাতের সূত্রপাত। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে রোগে একাধিক শিম্পাঞ্জির মৃত্যু তাদের সামাজিক বন্ধন দুর্বল করে দেয়, যা পরবর্তীতে চরম শত্রুতায় রূপ নেয়।

গবেষণার সহলেখক জন মিতানি জানান, যেসব শিম্পাঞ্জি একসঙ্গে বড় হয়েছে ও সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হয়েছে, তাদেরই পরস্পরের বিরুদ্ধে এমন সহিংস হয়ে ওঠা মেনে নেওয়া কঠিন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাতই অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সংঘাতে ওয়েস্টার্ন দলের কোনো সদস্য এখনো নিহত হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে তারা শক্তি ও এলাকা-উভয় দিক থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটিকে বন্য শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে একই দলের ভেতর বিভক্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতার প্রথম সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও গবেষকরা এটিকে সরাসরি ‘গৃহযুদ্ধ’ বলতে সতর্ক, তবু তারা স্বীকার করেছেন-এই সংঘাতের সঙ্গে মানব সমাজের সহিংসতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। তবে বিবর্তনের দীর্ঘ ব্যবধানে মানুষের আচরণ আলাদাভাবে বিকশিত হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।


সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইলন মাস্ককে ‘প্রকৃত প্রতিভাবান’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইলন মাস্ককে ‘প্রকৃত প্রতিভাবান’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ককে ‘প্র...

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।...

নেতানিয়াহুর জোটের জয়েও সরকার গঠন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহুর জোটের জয়েও সরকার গঠন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।...

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্পাই ড্রোন আটকানোর দাবি ইরানের
২৯ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্পাই ড্রোন আটকানোর দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন নিরাপদে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে