হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক কোনো সংকট হবে না, বরং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। সংস্থাটি কৃষিপণ্য ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিলের ১৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থার মহাপরিচালক কু দোংইউ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, সার এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য অবরোধ কোনো আঞ্চলিক বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার এই কৌশলগত নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়।
এফএও মহাপরিচালক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাণিজ্য পথ খোলা রাখা, কৃষি উপকরণের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা, মানবিক খাদ্য করিডোর সুরক্ষিত রাখা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তাঁর মতে, তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকটের চেয়েও সার ও কৃষি উৎপাদন উপকরণের ঘাটতি বেশি উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও সালফার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কু দোংইউ আরো সতর্ক করে বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি দেখা দিলে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬