গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো ‘ঋতুরানি’ শরৎকাল

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০০:১০ এএম ২০২৬
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো ‘ঋতুরানি’ শরৎকাল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভাদ্র মানেই পলিমাটির এই বাংলায় শরতের স্নিগ্ধ ও রূপসী কন্যার মনমাতানো আগমন। বর্ষার একটানা ভারী বর্ষণ আর ধূসর মেঘের বুক চিরে আকাশ যখন সম্পূর্ণ ধুয়ে-মুছে একাকার হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ ও নির্মল রূপ। বাংলা পঞ্জিকার ভাদ্র ও আশ্বিন- এই দুটি মাস মিলে আবর্তিত হয় ঋতুচক্রের অন্যতম সুন্দর ঋতু শরৎকাল।

প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ, অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো আবহাওয়ার কারণে শরৎকালকে অত্যন্ত আদরে ও গৌরবে বলা হয়ে থাকে ‘ঋতুরানি’। এই ঋতু কেবল বাংলার ধরণীকে নতুন সাজে সাজিয়েই তোলে না, বরং তা প্রতিটি মানুষের মন ও আবেগে ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত শান্তি ও আনন্দের স্পন্দন।

শরতের আকাশ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রকলা। বর্ষার মেঘের ভারী আস্ফালন পেরিয়ে শরতের আকাশ হয়ে ওঠে গাঢ় নীলাভ ও কাচের মতো স্বচ্ছ। সেই রূপালি আকাশের বুকে দল বেঁধে ভেসে বেড়ায় পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘের ভেলা। দিনের সোনালী রোদে এই মেঘের মৃদু চলাচল আর বিচরণ মানুষের ক্লান্ত মনে নিয়ে আসে গভীর প্রশান্তি। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত গ্লানি ধুয়েমুছে এক নতুনপ্রাণের সন্ধান পায় এই নীলাকাশের মাঝে।

গ্রামীণ বাংলার মেঠো পথ, নদী কিংবা খালের ধার, আর জলাভূমির চারপাশ জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয় স্নিগ্ধ কাশফুল। মৃদু বাতাসে যখন নদীর চরে এই সাদা ফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার শুভ্র হাসিতে চারপাশ আলোকিত করে তুলেছে। বাতাসে মাথা দুলিয়ে দেওয়া এই কাশবনই হলো শরতের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও প্রতীক। এই অপরূপ দৃশ্য পথিকের মন কেড়ে নেয় এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় যে শরৎ এসে গেছে তার পূর্ণ মহিমায়।

ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে ঝরে থাকা শিউলি ফুলের সুবাসে ভরে ওঠে চারপাশ। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ছোট্ট ফুলগুলো শরতের স্নিগ্ধতাকে মূর্ত করে তোলে। একই সঙ্গে বাংলার দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতগুলোতে শুরু হয় রূপান্তর। কাঁচা ধানের শীষে ধীরে ধীরে ধরতে শুরু করে সোনালি আভা। এই সোনালি রঙ কৃষকের মনে বুনে দেয় নতুন স্বপ্নের বীজ, কারণ শরতের হাত ধরেই বাংলার ঘরে ঘরে আগমন ঘটে উৎসবের আমেজ। ফলে শরৎ কেবল রূপের ডেসয়াই নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার কৃষিজীবনের জন্যও এক পরম আশীর্বাদস্বরূপ।

যান্ত্রিক কংক্রিটের শহুরে জীবনেও শরতের ছোঁয়া লাগে ভিন্ন মাত্রায়। ব্যস্ত শহরের উঁচু ইমারতের ফাঁকে উঁকি দেওয়া নীল আকাশ আর দুপুরের একটু ফুরফুরে বাতাস শহরবাসীকেও কিছুক্ষণের জন্য হলেও ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রাণবন্ত করে তোলে। অন্যদিকে, গ্রাম বাংলায় তখন অন্য রকম এক আনন্দোৎসব। নদীর ঘাটে ডিঙি নৌকার চলাচল, ধানের ক্ষেতে রোদের খেলা আর শিউলি ঝরার শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এভাবেই শহর ও গ্রাম- দুই ভিন্ন আঙ্গিকে শরৎ তার নিজস্ব মহিমায় ধরা দেয়।

শরৎ কেবল রূপ-লাবণ্যের কোনো ঋতু নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, লোকগান এবং সমৃদ্ধ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এক অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ—সবার রচনায় বারবার ফিরে এসেছে শরতের ওই নীল আকাশ, শুভ্র কাশফুল, ভোরের শিউলি আর জোছনা প্লাবিত রাতের রূপ। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের তুলিকাতেও শরৎ হয়ে উঠেছে প্রকৃতির এক পরম বিস্ময়। তাই সব মিলিয়ে শরৎ কেবল একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন আবেগ, নস্টালজিয়া আর ভালোবাসার অপরূপ নাম- আমাদের প্রাণের ‘ঋতুরানী’।

কেএমএএ/আপ্র/১৭.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন

ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে মাখানা ও পপকর্নের মধ্যে কোনটি...

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা

ব্যথা কতটা তীব্র, তা শুধু শারীরিক উদ্দীপনার ওপরই নির্ভর করে না; আশপাশের পরিস্থিতি এবং সামনে থাকা ব্য...

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন

নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়, সাবলীল কথোপকথন, এরপর তার পরবর্তী বার্তার অপেক্ষা—এভাবেই কখনো কখনো অল্প সময়ের...

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ
২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ

উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—সব আয়োজনেই ঘরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান অনেকে। তবে ঘর সাজানোর জন্য নতুন আ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে