গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

শরতে বিদেশিদের নানা স্বদের খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৮ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৪ এএম ২০২৬
শরতে বিদেশিদের নানা স্বদের খাবার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মেঘ আর কাশফুল তো আছেই, খাবারের ঘ্রাণও জানান দেয় শরৎ এসেছে। শহরে থাকুন আর গ্রামে- এই ঋতুতে নাকে লাগবে জ্বাল দেওয়া তালের রসের ঘ্রাণ। শরৎ এসেছে মানে তালের বড়া, পায়েস, পিঠা বা ক্ষীরের কথা মনে হবে কোনো উসকানি ছাড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাল দিয়ে তৈরি কতশত ফিউশন খাবারের রেসিপি যে ঘুরে বেড়াবে, এর হিসাব নেই। অবশ্য ফলের দোকানে তাল ছাড়া এখন পাওয়া যাচ্ছে আমড়া, কামরাঙা, জাম্বুরা ইত্যাদি।

শরতে ইলিশের নানান পদ তৈরি হয় বাড়িতে বাড়িতে। ইলিশ ভাজা, ইলিশের তেল ঝোল, সরিষা ইলিশ, ইলিশের লেজের ভর্তা, কচুর লতি বা শাক দিয়ে ইলিশের মাথা রান্না যেন এই ঋতুর সিগনেচার খাবার। আমাদের পাতে এ সময় পড়ে কচুমুখী, ধুন্দুল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও কাঁকরোল।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন শরৎ আসে, তখন ওইসব দেশের মানুষও বিভিন্ন পদের খাবার খায়। তাই শরতে বিদেশিদের খাবার নিয়ে করা হলো বিশেষ আয়োজন-

এশিয়ার মুনকেক: খুব জনপ্রিয় একধরনের কেক- যা ভিয়েতনাম, চীন, সিঙ্গাপুরের মতো অনেক এশীয় দেশে শরতের মাঝামাঝি বিভিন্ন উৎসবের খাবার হিসেবে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এটি বিশ্বজুড়ে চায়নাটাউনগুলোতেও বিক্রি হয়। ময়দা, চিনাবাদামের তেল ও সুগার সিরাপ দিয়ে তৈরি কেকগুলোয় বিভিন্ন ধরনের পুর থাকে, যেমন নোনতা ডিম, লাল শিমের পেস্ট, পদ্মবীজের পেস্ট, তরমুজের বীজ, আখরোট, তিল, মিষ্টি কাঠবাদাম ও কুমড়ার বীজের মিশ্রণ ইত্যাদি। বিভিন্নভাবে এই মুনকেক তৈরি করা যায়। ভাপে সেদ্ধ, বেক করে বা ভেজে তৈরি হয় এগুলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামুদ্রিক খাবার: শরৎকাল দেশটির জনপ্রিয় তিনটি সামুদ্রিক খাবারের মৌসুম। এগুলো হলো নীল কাঁকড়া, জাম্বো চিংড়ি এবং গিজার্ড শ্যাড। গিজার্ড শ্যাড মাছটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের ছোট ইলিশের মতো। চর্বিযুক্ত নীল কাঁকড়া ভাপানো স্যুপে রান্না করা হয় এবং গিজার্ড শ্যাড গ্রিল করে খাওয়া হয়। রসাল ও চর্বিযুক্ত চিংড়ি কাঁচা বা গ্রিল করে খাওয়া হয়। কোরিয়ায় চিংড়ি খাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো এর খোসা ছাড়িয়ে ভিনেগার এবং লাল মরিচের সসে ডুবিয়ে খাওয়া।

জাপানে নতুন চালের ভাত খাওয়া: শরৎকালে জাপানে আসা পর্যটকদের উপভোগ করার জন্য খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা থাকে। আলোচিত খাবারগুলোর একটি হলো শিনমাই বা নতুন চাল, যা শরতের প্রথম ফসল তোলার সময়ের ধান থেকে পাওয়া চাল দিয়ে রান্না করা হয়। বলা হয়, শিনমাইয়ের একটি বিশেষ স্বাদ রয়েছে- যা সারা বছর উৎপাদিত চাল থেকে ভিন্ন। এই নতুন চাল রান্না করার পর পুরোনো চালের চেয়ে নরম ও মিষ্টি হয়। পর্যটকেরা শুধু সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি উপভোগ করতে পারেন। স্বাদ বাড়ানোর জন্য নতুন চাল চেস্টনাট, মাৎ সুতাকে মাশরুম ইত্যাদির সঙ্গে খাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আপেল উৎসব: শরৎকালে বেশির ভাগ আমেরিকান যে কাজগুলোতে অংশ নেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো আপেল তোলা এবং হ্যালোউইনের জন্য কুমড়া খোদাই করা। পাকা আপেল খাওয়ার পাশাপাশি অধিবাসীরা আপেল থেকে অনেক ধরনের খাবার তৈরি করেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল সিডার ডোনাট, সিডার, পনিরের প্রলেপ দেওয়া আপেল পুডিং ইত্যাদি।

মেক্সিকোর চিলিস এন নোগাদা: এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের খুব প্রিয়। শরৎকালে আবহাওয়া শীতল হতে শুরু করলে খাবারটির মৌসুম শুরু হয়। খাবারটি মেক্সিকোতে পাওয়া যায়। এই খাবারের প্রধান উপাদান হলো পোবলানো মরিচ। কাটা ফল, কিমা করা মাংস ও বিশেষ ধরনের মসলা ভরে দেওয়া হয় পোবলানো মরিচের পেটে। পরে এটিকে আখরোট ও ডালিমের সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর স্বাধীনতা দিবসের প্রধান উৎসবের প্রতীকী খাবার হিসেবে এটি পরিচিত। পদটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর চমৎকার রং, যা মেক্সিকোর জাতীয় পতাকার তিন রংকে (সবুজ, সাদা ও লাল) ফুটিয়ে তোলে।

ফ্রান্সে গরুর মাংসের স্টু: ফ্রান্সের বিখ্যাত শরৎকালীন খাবারের তালিকায় যে নামটি প্রায়ই উল্লেখ করা হয়, তা হলো সবজি সহযোগে গরুর মাংসের স্টু বোফ বুরগিনিওঁ। খাবারটি তৈরি হয় রেড ওয়াইনে ভেজানো গরুর মাংস, গরুর মাংসের ঝোল এবং রসুন, পেঁয়াজ, শাকসবজি, মাশরুম, গাজর, অ্যাভোকাডোর মতো মসলা দিয়ে।

রাশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুম: মস্কোয় প্রতি শরৎকালে মাশরুম দিয়ে তৈরি একটি খাবার হলো সাদা বন মাশরুম এবং চ্যান্টেরেল মাশরুম- যা টক ক্রিমের সস দিয়ে ছিটিয়ে খরগোশের মাংসের পরিজ ও সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

জার্মানির কুমড়া স্যুপ: জার্মানিতে সাধারণ খাবারটি শরৎকে স্বাগত জানানোর অন্যতম সেরা উপায় হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত কুমড়ার স্যুপ অ্যাপেটাইজার বা প্রধান খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। ক্রিম, নারকেলের দুধ ও মসলা দিয়ে কুমড়ার পিউরিকে নানা রেসিপিতে স্যুপ তৈরি করা হয়। কখনো কখনো তা কুমড়ার খোলে পরিবেশন করা হয়। সূত্র: ইন্দোচিনা চার্ম ট্যুরস।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শৈশবেই হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের সুখ ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্পের আনন্দ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শৈশবেই হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের সুখ ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্পের আনন্দ

শৈশব জীবনের সবচেয়ে কোমল সময়। এই সময়ে একটি শিশু যা দেখে, শোনে ও যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে- তার গভীর প্রভাব...

বিষাদময় নির্জনতা এখন আত্মিক ও মানসিক উদ্দীপ্তের মাধ্যম
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিষাদময় নির্জনতা এখন আত্মিক ও মানসিক উদ্দীপ্তের মাধ্যম

জীবনের ব্যস্ততা, কোলাহল এবং সার্বক্ষণিক স্ক্রিন ও বিজ্ঞাপনের ভিড়ে আমাদের মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে অনেক সময়...

পর্যটন মাস সেপ্টেম্বরে ভ্রমণপিপাসু মানুষে পূর্ণ সৈকত ও আশপাশ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটন মাস সেপ্টেম্বরে ভ্রমণপিপাসু মানুষে পূর্ণ সৈকত ও আশপাশ

দরজায় কড়া নাড়ছে পর্যটন মৌসুম। ফেলে আসা বছরগুলোয় ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের মধ্য দিয়ে শুর...

জীবনের ব্যস্ততায় হারানো বন্ধুকে খুঁজে পেলে ফেরে স্মৃতি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের ব্যস্ততায় হারানো বন্ধুকে খুঁজে পেলে ফেরে স্মৃতি

সময় যত যায়, জীবনের ব্যস্ততাও তত বদলায়। এক সময় যেসব মানুষকে ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা যেত না, তাদের অ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই