সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার অন্যতম আকর্ষণ হলো সুস্বাদু সব খাবার। আর নারিকেলের নাড়ু ছাড়া পূজার খাবার জমেই না যেন। সুজি দিয়েও বানাতে পারেন নাড়ু। পূজার বাড়িতে পাতে নাড়ু আর সন্দেশ থাকবেই। নারিকেলের নাড়ুর সঙ্গে ক্ষীরের ছোট ছোট বল যোগ করে বানানো হয় টাটকেশ্বর নাড়ু। দুর্গাপূজার দুপুরে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করতে চাইলে পাতে রাখতে পারেন মুচমুচে কোলিওয়াড়া চিংড়ি। বাইরের আবরণ হবে মুচমুচে আর ভেতরের চিংড়ি থাকবে রসালো। উৎসবের দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে কিংবা বিকেলের আড্ডায় সসের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন এই সুস্বাদু পদ। পূজার কয়েকটি দিন ভরপুর খাওয়া-দাওয়া, অতিথি আপ্যায়ন চলে। আমিষ-নিরামিষ সব ধরনের খাবারই পাতে থাকে। তবে নবমী-দশমীতে প্রাণীজ আমিষ খাবার বেশি খাওয়া হয়। তার আগের দিনগুলোয় নিরামিষ পদ পাতে রাখেন অনেকে। যারা মজাদার ও ভিন্ন একটি সবজির পদ টেবিলে রাখতে চান, তারা বিভিন্ন সবজি ও ডাল দিয়ে বানিয়ে নিন ডাল ভেজ। তাই নিচে দেওয়া হলো নারিকেলের নাড়ু, সুজির নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু, মুচমুচে কোলিওয়াড়া চিংড়ি ও ডাল ভেজের রেসিপি-
নারিকেলের নাড়ু
উপকরণ: নারিকেল একটি, আখের গুড় ২০০ গ্রাম, ঘি এক টেবিল চামচ ও ভাজা তিল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: প্রথমে নারিকেল ধুয়ে কুড়িয়ে নিতে হবে। এবার কড়াইয়ে গুড়ের সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে কোড়া নারিকেল দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে। এভাবে ১০ থেকে ১২ মিনিট রাখতে হবে। নারিকেল আঠা আঠা হয়ে এলে তাতে ভাজা তিল ও ঘি দিয়ে আবারো নাড়তে হবে। এমনভাবে নাড়তে হবে যেন লেগে না যায়। চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে দেখতে হবে নাড়ু হাতে ঠিকমতো হচ্ছে কি না। এখন হাতের তালুতে নিয়ে নাড়ু বানিয়ে পরিবেশন করুন।
সুজির নাড়ু
উপকরণ: ঘিয়ে ভাজা সুজি আধা কাপ, নারিকেল কোরা ২ কাপ, চিনি এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ, দুধের ক্ষীর আধা কাপ, এলাচের গুঁড়া সিকি চা-চামচ ও পানি সামান্য।
প্রণালি: প্রথমে সুজিগুলোকে ঘিয়ে ভালোভাবে ভেজে বাদামি রং করে নিতে হবে। অন্য একটি কড়াইয়ে নারকেল কোরা, চিনি ও পানি দিয়ে ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে পাক তৈরি করে নিন। রান্না সম্পূর্ণ হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে সুন্দরভাবে পাটায় বেটে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা সুজি, দুধের ক্ষীর ও এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে হাতের সাহায্যে চৌকোনা আকারে নাড়ু তৈরি করুন।
ক্ষীরের টাটকেশ্বর নাড়ু
উপকরণ: কোরানো নারিকেল দুই কাপ, ময়দা আধা কাপ, চিনি এক কাপ, দুধের ক্ষীর এক কাপ ও এলাচি গুঁড়া পরিমাণমতো।
প্রণালি: প্রথমে ক্ষীরের বল তৈরি করে নিন। আধা কাপ দুধের ক্ষীরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ চিনি ও সামান্য ময়দা ভালোভাবে মেখে নিন। এরপর মিশ্রণটি দিয়ে ছোট ছোট গোল বল তৈরি করে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে ক্ষীরের বলগুলো দিয়ে ভেজে নিতে হবে। বাদামি রঙ হয়ে এলে তেল থেকে তুলে রাখুন। অন্য একটি কড়াইয়ে কোরানো নারিকেল, চিনি, বাকি দুধের ক্ষীর এবং সামান্য পরিমাণ পানি দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে হবে। মিশ্রণটি আঠালো হয়ে পাক আসা পর্যন্ত নাড়তে হবে। পাক হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। নারিকেলের পাক সামান্য ঠাণ্ডা হলে পাটায় বেটে নিতে হবে। এরপর এতে এলাচি গুঁড়া মিশিয়ে নিন। নারিকেলের মিশ্রণ হাতে নিয়ে মাঝখানে ভাজা ক্ষীরের বল দিয়ে গোল আকারের নাড়ু বানিয়ে নিন।
কোলিওয়াড়া চিংড়ি
উপকরণ: মাঝারি আকারের চিংড়ি আধা কেজি, চালের গুঁড়া ২ কাপ, মরিচ গুঁড়া এক চা-চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা এক টেবিল চামচ, রসুন বাটা এক টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি এক টেবিল চামচ, একটি লেবুর রস, লবণ স্বাদমতো ও তেল পরিমাণমতো
প্রণালি: প্রথমে চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে নিন। চাইলে লেজ রেখে দিতে পারেন। চিংড়ির পিঠের কালো শিরা বের করে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পেপার টাওয়েল দিয়ে চিংড়িগুলো শুকিয়ে নিন। এতে মসলা ভালোভাবে মাখানো যাবে। এবার একটি বড় পাত্রে লাল মরিচ গুঁড়া, গরম মসলা, লবণ, কুচি করা ধনেপাতা, আদা বাটা ও রসুন বাটা নিন। এর সঙ্গে লেবুর রস দিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ঝালের পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন। এবার পরিষ্কার চিংড়িগুলো মসলার মিশ্রণে দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। প্রতিটি চিংড়ির গায়ে যেন সমানভাবে মসলা লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এরপর আলাদা পাত্রে রাখা চালের গুঁড়ায় চিংড়িগুলো ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। কড়াইয়ে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। তেল গরম হয়ে এলে আঁচ মাঝারি করে অল্প অল্প করে চিংড়িগুলো ছেড়ে দিন। প্রতিটি চিংড়ি প্রায় ৩-৪ মিনিট ভাজুন, যতক্ষণ না বাইরের অংশ সোনালি ও মুচমুচে হয়ে আসে এবং ভেতরটাও ভালোভাবে সিদ্ধ হয়। তবে বেশি সময় ধরে ভাজবেন না, এতে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে। চিংড়িগুলো সোনালি ও মুচমুচে হয়ে এলে তেল ঝরিয়ে তুলে নিন। তৈরি হয়ে গেলে গরম গরম কোলিওয়াড়া চিংড়ি পছন্দের চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন।
ডাল ভেজ
উপকরণ: মুগ ডাল আধা কাপ, ফুল কপি আধা কাপ, কুমড়া আধা কাপ, পটল আধা কাপ, কাঁচা পেঁপে আধা কাপ, আলু একটি, গাজর আধা কাপ, বরবটি আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৪টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, গোটা জিরা আধা চা-চামচ, আদা-রসুন বাটা এক চা-চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, পানি এক কাপ, জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ।
প্রণালি: প্রথমে সব ধরনের সবজি ভালো করে কেটে ধুয়ে নিন। ডালও ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। ডাল ও সবজি সামান্য লবণ ও হলুদ গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। অন্য একটি প্যানে তেল গরম করে গোটা জিরা ফোড়ন দিয়ে কেটে রাখা পেঁয়াজ হালকা ভাজুন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে একটু নাড়তে হবে। সামান্য হলুদের গুঁড়া দিয়ে ভেজে নিন। এতে সিদ্ধ করে রাখা ডাল সবজি ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ পর্যায়ে সবজিতে একে একে কাঁচা মরিচ, জিরা, ধনিয়া গুঁড়া দিন। ভালো করে ৩ মিনিট ফুটিয়ে নিন। সবজি ও ডাল ঘন হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
কেএমএএ/আপ্র/১৯.১০.২০২৬