গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

পোশাক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই ভিন্নতাকে জানানো হয় সম্মান

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৩ এএম ২০২৬
পোশাক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই ভিন্নতাকে জানানো হয় সম্মান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

‘লাউড শার্ট ডে’র মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। এই দিনে মানুষ উজ্জ্বল রং, বাহারি নকশা ও নজরকাড়া পোশাক পরে আনন্দের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন সচেতনতার বার্তা। পোশাকের বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা, প্রত্যেকের স্বতন্ত্রতাকে উদ্যাপন করা এবং ভিন্নতাকে সম্মান জানানো।

‘লাউড শার্ট ডে’ উপলক্ষে স্কুল, অফিস ও বিভিন্ন সামাজিক পরিসর রঙিন পোশাকে সেজে ওঠে। নানা বয়সের মানুষ আনন্দের সঙ্গে এই উদ্যোগে শামিল হন। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়, আনন্দময় কোনও উদ্যোগের মাধ্যমেও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে রঙিন পোশাকের আড়ালে রয়েছে আরও গভীর একটি উদ্দেশ্য। লাউড শার্ট ডে-র মাধ্যমে শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়। উপযুক্ত শ্রবণযন্ত্র, স্পিচ থেরাপি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা শিশুদের কথা শুনতে শেখা, কথা বলা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পরিষেবাগুলি অনেক শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে, পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকেও নতুন আশার আলো দেখায়।

লাউড শার্ট ডের সূচনা হয়েছিল দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়। বর্তমানে ‘ক্যান:ডু ৪কিডস’ নামে পরিচিত কোরা বার্কলে সেন্টারে এক দিন কফির আড্ডায় এই আয়োজনের ভাবনা উঠে আসে। শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করছিলেন সেখানকার কর্মীরা। তারা এমন একটি উদ্যোগের কথা ভাবছিলেন, যেখানে আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া যাবে। সেখান থেকেই রঙিন ও নজরকাড়া শার্ট পরার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির ধারণা আসে। বাহারি পোশাকের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশুদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা তুলে ধরাই ছিল এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস ছিল, মজার কোনও উদ্যোগও মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং নিউজিল্যান্ডেও। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের ‘হিয়ার অ্যান্ড সে’, নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘দ্য শেফার্ড সেন্টার’ এবং নিউজিল্যান্ডের ‘সাদার্ন ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর মতো সংস্থাও এই উদ্যোগে অংশ নেয়।

লাউড শার্ট ডে পালন করতে দরকার শুধু রঙিন পোশাক, সৃজনশীল ভাবনা এবং একটি ভালো উদ্যোগে শামিল হওয়ার ইচ্ছা। বাড়ি, অফিস কিংবা স্কুল যে কোনও জায়গা থেকেই এই দিনটি উদ্যাপন করা যায়। আলমারি থেকে বের করে নিন আপনার সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বাহারি শার্টটি। বেছে নিতে পারেন বড় নকশার, বিচিত্র রঙের কিংবা মজাদার প্রিন্টের কোনও পোশাক। এই দিনে সাজপোশাকে বাঁধাধরা নিয়মের প্রয়োজন নেই। বরং যত বেশি রঙিন ও ব্যতিক্রমী হবে আপনার পোশাক, ততই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে উদ্যাপন। নিজের সাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে অন্যদেরও এই উদ্যোগে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারেন।

লাউড শার্ট ডে উদ্যাপনে অফিস বা স্কুলে আয়োজন করা যেতে পারে রঙিন পোশাকের বিশেষ দিন। সহকর্মী, সহপাঠী ও বন্ধুদের সবচেয়ে বাহারি পোশাক পরে আসার আমন্ত্রণ জানান। সবচেয়ে বিচিত্র বা নজরকাড়া পোশাকের জন্য ছোট পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি ছবি তোলার জন্য তৈরি করা যায় বিশেষ জায়গা- যেখানে সবাই মিলে ছবি তুলে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারবেন।

লাউড শার্ট ডে উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরতে পারেন। শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলির তথ্য ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এই দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বা অনুভূতির কথাও লিখতে পারেন।

লাউড শার্ট ডে উপলক্ষে শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করে এমন কোনও বিশ্বস্ত সংস্থায় আর্থিক অনুদান দিতে পারেন। অনুদানের পরিমাণ বড় না ছোট, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া প্রতিটি সাহায্য শিশুদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।

বাড়িতে, স্কুলে কিংবা কোনও কমিউনিটি সেন্টারে শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা যেতে পারে ছোট্ট ছবি আঁকার অনুষ্ঠান। তাদের নিজের পছন্দমতো রং ও নকশা ব্যবহার করে স্বপ্নের ‘লাউড শার্ট’ আঁকতে বলুন। কেউ আঁকতে পারে উজ্জ্বল ফুল, কেউ বেছে নিতে পারে মজার নকশা কিংবা নানা রঙের জ্যামিতিক আকৃতি।

কেএমএএ/আপ্র/১৯.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সম্প্রীতির বাংলাদেশে এখন বিরাজ করছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ
১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রীতির বাংলাদেশে এখন বিরাজ করছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ

দেশজুড়ে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজ...

ভ্রমণে গিয়ে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষায় সতর্কতা
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভ্রমণে গিয়ে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষায় সতর্কতা

ভ্রমণে গিয়ে অনেক সময় নানা রকম বিপদের মুখে পড়তে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে অগ্নিকাণ্ড। তাই অগ্নি...

শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ সুস্বাদু খাবার
১৯ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ সুস্বাদু খাবার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার অন্যতম আকর্ষণ হলো সুস্বাদু সব খাবার। আর...

পূজায় উপচে পড়া ভিড় থেকে নিজেকে সামলানোর উপায়
১৯ অক্টোবর ২০২৬

পূজায় উপচে পড়া ভিড় থেকে নিজেকে সামলানোর উপায়

পূজার মৌসুমে শহরের রাস্তাঘাট, মণ্ডপ, বাজার কিংবা গণপরিবহণে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। অনেকের কাছে এই পরিব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে