গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিশুর ঠাণ্ডা-জ্বরে সঠিক যত্ন ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২০:৪৮ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৪ এএম ২০২৬
শিশুর ঠাণ্ডা-জ্বরে সঠিক যত্ন ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ঠাণ্ডা, সর্দি ও জ্বর হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে এবং সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। তবে শিশুর এই অসুস্থতার দিনগুলোতে সঠিক যত্ন এবং সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

ঘরোয়া যত্ন ও পরিচর্যা: শিশুর জ্বর বা ঠাণ্ডা লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরেই কিছু প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তা হলো-

শরীর মোছানো: ঠাণ্ডা পানি বা বরফ পানি ব্যবহার না করে কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুর পুরো শরীর ভালো করে মুছে দিন। কপালে জলপট্টি দিতে পারেন।

পর্যাপ্ত তরল খাবার: শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য না হয়ে পড়ে, সে জন্য বারবার তরল খাবার দিন। শিশুকে বুকের দুধ, ওআরএস, ডাবের পানি, কিংবা স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে।

হালকা পোশাক: জ্বর হলে শিশুকে ভারী কম্বল বা বেশি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবেন না। এতে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাকে হালকা ও নরম সুতির পোশাক পরিয়ে রাখুন।

নাক পরিষ্কার রাখা: নাক বন্ধ থাকলে শিশু খেতে বা ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নরমাল স্যালাইন ড্রপ দিয়ে নাক পরিষ্কার করে দিন।

আরামদায়ক পরিবেশ: ঘরের তাপমাত্রা যেন অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন (১৮ক্ক-২৫ক্ক সেলসিয়াস ভালো)। ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুদেরও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাতে বাড়ে, সে জন্য তাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয়, তাহলে মা যেন বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খান। শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ পান করাবেন। আর শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার সঙ্গে দেবেন। শিশুদের এই সময়ে খিচুড়ি, আলু ও ডিমের কুসুম খাওয়ানো যেতে পারে।

সতর্ক থাকতে হবে: ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ দেবেন না। এ ছাড়াও মধু ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে তাকে ভুলেও মধু খাওয়াবেন না। এতে ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’ নামের মারাত্মক রোগ হতে পারে। শিশুদের জ্বরের জন্য কখনই অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

যখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে: যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত শিশুকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন—

শিশুর বয়স ৩ মাসের কম এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ক্ক ফারেনহাইট (৩৮ক্ক সে.) বা তার বেশি হলে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে, বুক দেবে গেলে বা ঘন ঘন শ্বাস নিলে। শিশু যদি একদমই খেতে না চায় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। অতিরিক্ত মাত্রায় জ্বর (১০২ক্ক ফারেনহাইটের বেশি) এবং সঙ্গে খিঁচুনি হলে। শিশু যদি মাত্রাতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়ে এবং তাকে স্বাভাবিকভাবে জাগানো না যায়। আপনার শিশুর বর্তমান বয়স কত এবং তার শরীরের তাপমাত্রা (জ্বর) কত ডিগ্রি ফারেনহাইট, তা জানালে আরও নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া তার কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো অন্য কোনো লক্ষণ আছে কি না।

লেখক: সাংবাদিক

কেএমএএ/আপ্র/১৯.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গুতে আারো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আারো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছ...

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়ালো ১২০০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৫ জনের
১৯ অক্টোবর ২০২৬

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়ালো ১২০০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৫ জনের

দেশে হামের প্রকোপে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চলতি বছর নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১...

ডেঙ্গুতে অক্টোবরের ১৮ দিনেই মৃত্যু ১০৩, মোট প্রাণহানি ৩৪৮
১৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে অক্টোবরের ১৮ দিনেই মৃত্যু ১০৩, মোট প্রাণহানি ৩৪৮

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই। চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনেই এডিস মশাবাহিত রোগটিতে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়ে...

পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্য: রাষ্ট্র কি দায়িত্ব নেবে?
১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্য: রাষ্ট্র কি দায়িত্ব নেবে?

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে