জাপানিদের উজ্জ্বল, টানটান ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এমন অনেক জাপানি নারী আছেন, যাদের বয়স ৬০ পেরোলেও দেখতে অনেকটাই তরুণ মনে হয়। জাপানি নাটক ও সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার কারণে তাদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং সৌন্দর্যচর্চার ধরণও বিশ্বজুড়ে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানিদের তারুণ্য ধরে রাখার পেছনে কোনো জাদু নয়; বরং রয়েছে নিয়মিত পরিচর্যা, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার
জাপানি সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ডাবল বা ট্রিপল ক্লিনজিং। তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়মে ফোম ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করেন। এরপর হালকা লোশন ব্যবহার করে ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা হয় এবং সবশেষে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে সেই আর্দ্রতা ধরে রাখা হয়।
অনেকেই চালের গুঁড়া ও সামুদ্রিক শৈবালের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ব্যবহার করেন। পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহারকে তারা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করেছেন।
টোনার ও সিরামের ব্যবহার
ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহার করে ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। এরপর সিরাম ব্যবহার করা হয়, যা বলিরেখা, দাগ ও ত্বকের নিস্তেজ ভাব কমাতে সহায়তা করে এবং ত্বককে আরো উজ্জ্বল ও সতেজ রাখে।
গরম পানিতে গোসল
দীর্ঘ সময় গরম পানিতে গোসল করাও জাপানিদের একটি পরিচিত অভ্যাস। এতে শরীর শিথিল হয়, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অনেকেই গোসলের সময় ত্বকের পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন তেলও ব্যবহার করেন।
শিট মাস্ক ও ফেস ম্যাসাজ
জাপানি বিউটি রুটিনে শিট মাস্কের ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়। নির্দিষ্ট সময় মুখে মাস্ক রেখে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে। তবে অতিরিক্ত সময় মাস্ক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিয়মিত ফেস ম্যাসাজ রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বককে টানটান রাখতে ভূমিকা রাখে।
চুলের যত্নেও প্রাকৃতিক উপাদান
চুলের যত্নে জাপানিরা কাঠের চিরুনি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল সমানভাবে ছড়িয়ে দিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্যামেলিয়া অয়েল ও সামুদ্রিক শৈবাল চুলের পুষ্টি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানিদের সৌন্দর্যের অন্যতম ভিত্তি তাদের খাদ্যাভ্যাস। তাদের প্রতিদিনের খাবারে থাকে গ্রিলড মাছ, ভাত, বিভিন্ন ধরনের সবজি, স্যুপ, ফল এবং গ্রিন টি। তুলনামূলক কম তেলযুক্ত ও সুষম খাদ্য গ্রহণের কারণে শরীর ও ত্বক দুটিই সুস্থ থাকে।
মাছে থাকা প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। অন্যদিকে গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জাপানিদের তারুণ্যের মূল রহস্য কোনো বিশেষ প্রসাধনী নয়; বরং নিয়মিত পরিচর্যা, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। এসব অভ্যাসই বয়স বাড়ার পরও তাদের ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসি/আপ্র/২১/০৬/২০২৬