অনেক পরিবারেই দেখা যায়, বাবা মেয়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশলেও ছেলের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোর ও শাসনমূলক আচরণ করেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সব পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অনেক সময় সামাজিক প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সন্তান লালন-পালনের ধরণ বাবার আচরণে ভিন্নতা তৈরি করে।
মেয়ের প্রতি বেশি সুরক্ষামূলক মনোভাব
বাবারা অনেক সময় মেয়ের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। এ কারণে তারা মেয়ের প্রতি বেশি যত্নশীল ও সুরক্ষামূলক আচরণ করেন। অনেক পরিবারে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যেখানে খোলামেলা কথা বলা, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছেলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার ওপর জোর
অনেক বাবা ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বশীল, সময়নিষ্ঠ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাই তারা শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ শেখানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেক সময় এই আচরণ কঠোর বলে মনে হলেও, এর উদ্দেশ্য থাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মায়ের আচরণে সমাজ ও সংস্কৃতির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। বহু সমাজে এখনও মেয়েদের বেশি সুরক্ষা দেওয়া এবং ছেলেদের শক্ত ও দায়িত্ববান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা বিদ্যমান। ফলে অজান্তেই অনেক পরিবারে সন্তানদের প্রতি আচরণে পার্থক্য দেখা যায়।
তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেন, এই প্রবণতা সর্বজনীন নয়। অনেক বাবাই ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে সমানভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং উভয়ের ক্ষেত্রেই একই ধরনের স্নেহ, সহমর্মিতা ও শৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখেন।
ভালোবাসার প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আচরণে পার্থক্য থাকলেও তা ভালোবাসার পরিমাণের পার্থক্য বোঝায় না। কেউ স্নেহ ও আগলে রাখার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, আবার কেউ দায়িত্ব শেখানো ও স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
আধুনিক অভিভাবকত্বে পরিবর্তন
বর্তমানে বাবা-মায়ের ভূমিকা দ্রুত বদলাচ্ছে। অনেক বাবা এখন মেয়েদের আত্মনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ছেলেদের সঙ্গেও আবেগ প্রকাশ, খোলামেলা আলোচনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর অভিভাবকত্বের মূল ভিত্তি হলো সন্তানকে বোঝা, সময় দেওয়া, সম্মান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভালোবাসা ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তাই বাবা-মেয়ের বা বাবা-ছেলের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা নয়; প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি সম্পর্কই নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতায় গড়ে ওঠে।
এসি/আপ্র/২১/০৬/২০২৬