গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

চাকরি না পেয়ে ড্রাগন চাষে বাজিমাত, সফল উদ্যোক্তা নাঈম

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১১ পিএম, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪০ এএম ২০২৬
চাকরি না পেয়ে ড্রাগন চাষে বাজিমাত, সফল উদ্যোক্তা নাঈম
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছুটেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নেন লক্ষ্মীপুরের তরুণ মাজহারুল ইসলাম নাঈম। করোনা মহামারির সময় অনাবাদি জমি ইজারা নিয়ে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তার উদ্যোগ এখন একটি সফল কৃষি খামারে পরিণত হয়েছে, যেখানে হাজারো ড্রাগন গাছের পাশাপাশি অন্যান্য ফলের বাগান ও ছাগল পালনও চলছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের বাসিন্দা নাঈম ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তোলেন। বাবার সহায়তায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করা উদ্যোগে বর্তমানে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

কৃষিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ইউটিউব ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন উৎস থেকে ড্রাগন চাষের কৌশল শিখে গড়ে তোলেন ‘খান এগ্রো পার্ক’। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। পাশাপাশি পেয়ারা, পেঁপে চাষ এবং অর্ধশতাধিক ছাগলও পালন করা হচ্ছে।

বাগানে এখন সারি সারি গাছে কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। শ্রমিকরা ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই ফল সংগ্রহ করছেন।

নাঈম জানান, চলতি মৌসুমে ড্রাগন বিক্রি থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হওয়ার আশা করছেন। বর্তমানে তিনি একটি মাদরাসায় আইসিটি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত সময় দেন নিজের কৃষি উদ্যোগে।

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুরুতে বিষয়টি নতুন হলেও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলন ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতে ড্রাগন প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ড্রাগন চাষে রোগবালাই কম এবং বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় এটি লাভজনক। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে আরও অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হবেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা অনাবাদি জমিকে লাভজনক কৃষি খামারে রূপ দিয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, ড্রাগন চাষ কৃষিকে আরো লাভজনক ও আধুনিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এসি/আপ্র/২১/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত

বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু জমি নয়- কৃষক। সীমিত জমি, বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয়, জলবায়ুজনিত অন...

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি

বাংলাদেশে এখন তামাক চাষের জমি দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা তামাক কোম্পানিগুলোর এককালীন আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে...

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা

শীত আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। অথচ এরই মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে মুন্সীগঞ্জের সবজি চারার বাজারে। ভোর থেক...

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা

যশোরের ঝিকরগাছায় বেনেয়ালী মাঠে এক বর্গাচাষির পেঁপে ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে ১৮...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই