গরম গরম ফুলকো লুচি দেখলে লোভ সামলানো অনেকের পক্ষেই কঠিন। ছুটির সকাল, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা উৎসবের খাবারে লুচির আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু ময়দা ও তেলে ভাজা হওয়ায় অনেকেই স্বাস্থ্যগত কারণে এই প্রিয় খাবারটি এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, লুচি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের খারাপ কোলেস্টেরল বেশি, চর্বিযুক্ত যকৃতের সমস্যা, হৃদ্রোগ রয়েছে বা যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে তৈরি লুচি খাওয়া যেতে পারে।
কীভাবে স্বাস্থ্যকর করবেন লুচি
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু ময়দা দিয়ে লুচি না বানিয়ে তার সঙ্গে অল্প পরিমাণে বিভিন্ন শস্যের আটা বা ওটসের গুঁড়া মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে পুষ্টিগুণ কিছুটা বাড়ে, আবার স্বাদও প্রায় একই থাকে।
ময়দা মাখার সময় শুধু পানি ব্যবহার না করে সামান্য টক দই মিশিয়ে নিলে লুচি নরম হয় এবং কিছু অতিরিক্ত পুষ্টিও পাওয়া যায়।
এছাড়া ভাজা মুগডাল বা ছোলার ডালের গুঁড়া মিশিয়ে ময়দা তৈরি করলে লুচিতে প্রোটিনের পরিমাণও কিছুটা বাড়ানো সম্ভব।
তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল খুব কম গরম হলে লুচি বেশি তেল শুষে নেয়। আবার অতিরিক্ত গরম তেলও খাবারের গুণমান নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক তাপমাত্রায় লুচি ভাজা জরুরি।
একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ এতে ক্ষতিকর চর্বি তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভব হলে নতুন তেলেই লুচি ভাজা উচিত।
লুচির সঙ্গে কী খাবেন
শুধু তেল-মসলাযুক্ত ভারী তরকারি নয়, লুচির সঙ্গে ছোলার ডাল, মটরশুঁটির ঘুগনি বা বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি হালকা পদও খাওয়া যেতে পারে। এতে খাবারের পুষ্টিমান বাড়ে এবং খাবারও তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
লুচি যতই প্রিয় হোক, একসঙ্গে বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে পারে এবং হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
লুচি ভাজার পর টিস্যু পেপারের ওপর রাখলে অতিরিক্ত তেল অনেকটাই শোষিত হয়ে যায়। পাশাপাশি ভাজার জন্য এমন তেল ব্যবহার করা ভালো, যা বেশি তাপ সহ্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কয়েকটি পরিবর্তনের মাধ্যমে লুচির স্বাদ বজায় রেখেই এটিকে অনেকটাই স্বাস্থ্যকর করা সম্ভব। তবে যাদের নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনেই খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।
এসি/আপ্র/৩০/৬/২০২৬