গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান জানালেন কোনো চাপের মধ্যে নেই

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৮ এএম ২০২৬
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান জানালেন কোনো চাপের মধ্যে নেই
ছবি

প্রথম দিন দুদক কার্যালয়ে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান ও অপর দুই সদস্য -ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই তারা এবং স্বাধীনভাবেই কাজ করছেন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশের দুর্নীতি দূর করতে যথাযথ চেষ্টা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

১৬৬ দিন নেতৃত্বশূন্য থাকার পর আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বুধবার (১৯ আগস্ট) নতুন কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে নতুন দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াও প্রথম কার্যদিবসে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যান।

সকাল ১০টা থেকে দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন চেয়ারম্যান।

এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে, প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের জন্য কাজ করতে পারি। দুদকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারি। দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার যথোপযুক্ত চেষ্টা করতে পারি।’

রাজনৈতিক সরকারের সময়ে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি-এমন সমালোচনার বিষয়ে নতুন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি।’

নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান বলেন, তদবির বা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দুদকের চেয়ারম্যান হননি। নিয়োগ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরও ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগের কমিশনের শুরু করা অনুসন্ধান ও মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বিভিন্ন অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অনিয়মের অভিযোগ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো ওইরকম কোনো ফাইল আসে নাই। আমরা বসছি কেবল। আসুক, আমরা যা করবো আপনারা নিজেরাই দেখতে পাবেন। এসব নিয়ে আগাম কথা বলতে চাই না।’

শেখ হাসিনাসহ আগের সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান, মামলা এবং অভিযোগপত্রের অপেক্ষায় থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি। বিদেশে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। কমিশন কাজ শুরু করার পর এসব বিষয়ে জানানো হবে।

দুদকের নতুন কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়।’ অপর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিটি বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের করণীয় এবং তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের আপাতত অপেক্ষা করে কমিশন কী করছে তা দেখা উচিত। তার ভাষায়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে, তারা হতাশ হবেন না।

গত ৩ মার্চ দুদকের আগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। ৪ মার্চ থেকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য ছিল। ফলে নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত, মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র অনুমোদন, সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম আটকে ছিল।

নতুন কমিশন গঠনের জন্য গত ২২ জুন পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করে সরকার। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির সুপারিশের পর এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান এবং সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম খান ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগ দেন এবং বুধবার দুদকে প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন।

দুদক আইন অনুযায়ী, যোগ দেওয়ার দিন থেকে চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন চেয়ারম্যানের পরিচয়: এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে হাই কোর্ট এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।

দুই কমিশনারের পরিচয়: জাহাঙ্গীর আলম খান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং পরে পিএইচডি করেন। কর্মজীবনে ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন।

অপর কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া সাজ্জাদ হোসেন কর্মজীবনের শুরুতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও এবি ব্যাংকে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ, ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ এবং আইবিএতেও শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ

নিখোঁজের এক দিন পর রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে