যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হওয়ার পর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দিয়েছে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট। তাঁকে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে পৌঁছে দিতে নিজেই গাড়ি চালিয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেট।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসব পদক্ষেপের কথা জানান কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কোনো একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁকে বার্তা পাঠান, যাতে মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
মোজাম্মেল হক বলেন, “উনি অন্য একটা স্টেটে যেতে চাচ্ছিলেন। আমি নিজে ড্রাইভ করেই আসলে ড. ইউনূস স্যারকে এবং স্যারের সফরসঙ্গীকে সেখানে নিয়ে যাই।”
তিনি জানান, দুটি গাড়িতে করে মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। একটি গাড়িতে ছিলেন কনস্যুলেটের ভাড়া করা নিরাপত্তাকর্মী ও প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ওই রাতে ফিরে এসে ভোরবেলা আবার কর্মস্থলে যোগ দেন বলেও জানান তিনি।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের বিষয়ে আগে থেকে তাঁদের কাছে তথ্য ছিল না বলে জানান কনসাল জেনারেল। তাঁর ভাষ্য, “যেহেতু আমরা জানি না স্যারের আগমনের বিষয়টি, আমাদের তো এয়ারপোর্টে যাওয়ার বিষয়টাও আসলে ওভাবে আসে না। যে কারণে এয়ারপোর্টে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।”
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান। পরে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে তাঁকে আবার টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় কয়েকজনকে তাঁর পেছনে ছুটতে দেখা যায়। তাঁদের একজন চিৎকার করে ইংরেজিতে বলেন, বাংলাদেশে হাজারো মানুষকে হত্যার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস দায়ী এবং তিনি তাঁর দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন বলে ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন।
ঘটনার সময় মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে এর নিন্দা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেট যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে।
নিউইয়র্কের বিদেশি মিশনবিষয়ক দপ্তরকে বিষয়টি জানানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দপ্তর যথাযথ পুলিশ বিভাগ ও কূটনৈতিক পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেটও স্থানীয় পুলিশ ও কূটনৈতিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকেও শনাক্ত করা ব্যক্তিদের নামসহ যেসব তথ্য রয়েছে, তা সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে ঘটনাটি তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
কনসাল জেনারেল বলেন, “আমাদের কাছে থাকা ফুটেজগুলো আমরা তাদের পাঠিয়েছি। আরও যদি কিছু দরকার হয়, আমরা ওই ক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত, এটা আমরা তাদের জানিয়েছি।”
সানা/আপ্র/১৬/১০/২০২৬