গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৬ এএম ২০২৬
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার খুদে বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য পাঠানো হবে। ফলে বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া সম্পর্কে আগেই সতর্ক হয়ে চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে পারবেন কৃষকেরা।

সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষিবিমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা পাবেন কার্ডধারীরা। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও ঝড়ের কারণে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়। সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেলে কৃষকেরা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে, ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম বার্তা পেয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন কৃষকেরা। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা গেলে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতেও সহায়তা করবে।

স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠাবে কৃষি তথ্য সার্ভিস

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে কৃষক কার্ডধারীদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানো হবে। কৃষিবিষয়ক তথ্য, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় খুদে বার্তার মাধ্যমে এ সেবা সরবরাহ করবে।

কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়াই কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাঁদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক্-পাইলট কার্যক্রমের আওতায় আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ার উদ্যোগ

প্রকল্পের উপপরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজাতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনে আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় সময়মতো পূর্বাভাস পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছালে ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি সচিব আরো জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশে পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সহনশীলতার জন্য কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর প্রকল্প (পার্টনার)।

এসি/আপ্র/০২/১১/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মিরপুরে শ্রমিকদের সড়কে নামার চেষ্টা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
০২ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে শ্রমিকদের সড়কে নামার চেষ্টা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারো সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকে...

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন এলিজা জামান
০২ নভেম্বর ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন এলিজা জামান

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বি...

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের
০২ নভেম্বর ২০২৬

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে...

পদ্মা ব্যারাজে বছরে ৭ হাজার কোটি টাকার সুবিধার আশা
০২ নভেম্বর ২০২৬

পদ্মা ব্যারাজে বছরে ৭ হাজার কোটি টাকার সুবিধার আশা

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা—দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই