নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় চার নেতা’ শীর্ষক প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের ট্রাস্টিরা।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, বিকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রদর্শনীটি বন্ধ রাখা উচিত। তাদের পরামর্শ অনুসারেই উদ্বোধনী আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে ১২ থেকে ১৫ জন পুলিশ সদস্য জাদুঘরে আসেন। নিরাপত্তার কথা বলে তাঁরা অনুষ্ঠান শুরু করতে নিষেধ করেন। এরই মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কয়েকজন অতিথিও উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে আয়োজকেরা অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, অনুমতি ছাড়া একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল, যাতে অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো অনুষ্ঠান না হয়। পুলিশ গিয়ে বিষয়টি দেখভাল করেছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাদুঘর কর্তৃপক্ষই কোনো অনুষ্ঠান হবে না বলে জানিয়েছে।
জাদুঘরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকাল ৪টায় ষষ্ঠ তলার ৬ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের। ৩ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শনীটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাদুঘরের ট্রাস্টিরা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে সারওয়ার আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সাধারণত ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয় না। এবারের আয়োজনটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্ব এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জাতীয় চার নেতার ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরার জন্য। এটি সাধারণ কোনো জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠান ছিল না।
শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে সারওয়ার আলী বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাননি। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরামর্শ দিয়েছে বলে তাঁরা ধরে নিয়েছেন। তাঁদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদর্শনীর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত অনুমতির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রদর্শনীর বিষয়টি তিন-চার দিন আগেই প্রচার করা হয়েছিল। তাই শেষ মুহূর্তে এভাবে আয়োজন স্থগিত করা তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।
সানা/আপ্র/০৩/১১/২০২৬