বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ ‘আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায়’ পর্যালোচনা করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে ভারত এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।”
ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলে তাকে দেশে ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম চিঠি পাঠায়।
এরপর গত নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য আবারও ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। তবে এসব চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি দিল্লি।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকেও একই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। চলতি মাসের ৭ এপ্রিল দিল্লি সফরে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ওই সফরে খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিংহ পুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
ভারতের মুখপাত্র জানান, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দেশটির নিজস্ব আইনি কাঠামোর মধ্যে ‘কঠোর মূল্যায়নের’ মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দিল্লি।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক যখন নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, তখন তা স্বাভাবিক করতে ভারতের বর্তমান সরকার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছে।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬